মদনে ফসল রক্ষা বাঁধের বিল না পেয়ে বিপাকে বাঁধ সংস্কার কমিটি
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪১
নেত্রকোনা মদন উপজেলার হাওরে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ হলেও বরাদ্দের টাকা না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা। ব্যক্তিগত তহবিল ও ঋণ করে কাজ শেষ করলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অর্থ ছাড়ে ধীরগতি হওয়ায় বিপাকে পিআইসি’র লোকজন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের আওতায় মদন উপজেলায় ২১.২৪৮ কি.মি. ফসল রক্ষার বাঁধ সংস্কারের জন্য ১৯ টি পিআইসি গঠন করেন এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে ৬ কোটি ১০ লক্ষ টাকার চাহিদা চেয়ে আবেদন করেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা ধার্য করেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যে প্রাথমিক বরাদ্দ আসে ৬৩ লক্ষ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শুরুর পর অন্তত চার কিস্তিতে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও, বাঁধ সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এর লোকজন এপর্যন্ত বিল পায় মাত্র ৩৬ লক্ষ টাকা। যা ধার্যকৃত বরাদ্দের তুলনায় অতি নগণ্য। কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হলেও পরবর্তী কিস্তির টাকা পায়নি পিআইসি’র লোকজন। এতে করে শ্রমিকদের বিল পরিশোধ করতে পাড়ছেন না বাঁধ সংস্কার কমিটি (পিআইসি)।
খালিয়াজুরী এফসিডি প্রকল্প, পোল্ডার-৪ (মদন উপজেলার মাঘান অংশ) এর একাংশের পিআইসি’র সদস্য সচিব রহিম মিয়া জানান, আমার পিআইসিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৬ লক্ষ ২২ হাজার টাকা। কাজ শেষ, কিন্ত বিল পেয়েছি মাত্র ২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। শ্রমিকদের বিল দিতে পারিনি। এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফি জানান, বেড়িবাঁধের কাজ শেষ। পর্যাপ্ত বিল না পাওয়ায়, শ্রমিকদের বিল দিতে পারেনি বেড়িবাঁধ সংস্কার কমিটি। কোনো কোনো পিআইসি’র লোকজন ঋণ করে শ্রমিকদের বিল পরিশোধ করায় তারা বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত বিল পরিশোধ করতে আমি ইউএনও মহোদয়ের নিকট জোর সুপারিশ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বেড়িবাঁধ স্কিম কমিটির উপজেলা সভাপতি বেদবতী মিস্ত্রী জানান, সকল পিআইসি’র সভাপতি ও সদস্য সচিবদের নিয়ে মিটিং হয়েছে। অতি দ্রুত বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিকে/মান্নান

