দুই দশকে শিক্ষা বিপ্লবে বদলে গেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৯
মাত্র দুই দশক আগেও যেখানে মানসম্মত শিক্ষার জন্য হাহাকার ছিল, আজ সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণা। দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলা এখন আর কেবল একটি সাধারণ জনপদ নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আদর্শ শিক্ষানগরী। রংপুর, রাজশাহী থেকে শুরু করে বরিশাল কিংবা নোয়াখালী দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা এখন ভিড় জমাচ্ছে উত্তরের এই নিভৃত জনপদে।
চিরিরবন্দরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বড় বড় শহরকে টেক্কা দিচ্ছে। এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল তার চাক্ষুষ প্রমাণ: আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে ৮৪ জন পরীক্ষা দিয়ে ৮৪ জনই বৃত্তি পেয়ে সারা দেশে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। আমেনা বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের ১১০ জনের মধ্যে ৮৮ জনই বৃত্তি পেয়েছে।
মেহের হোসেন রেসিডেন্সিয়াল, সিটি রেসিডেন্সিয়াল এবং সানলাইট স্কুলের অভাবনীয় সাফল্য চিরিরবন্দরকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
পুরো উপজেলায় বর্তমানে ১৯৭টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭টিতেই রয়েছে উন্নত আবাসিক সুবিধা। এখানকার বিশেষত্ব হলো: শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকার কঠোর নিয়ম। উন্নত আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে (৯ থেকে ১২ হাজার টাকা)।
২০২৩-২৪ সেশনে এই উপজেলার মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান থেকেই ১৪ জন মেডিকেলে, ৪ জন বুয়েটে এবং ৭৮ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
উপজেলার ঘুঘরাতলী এলাকায় মাত্র ৫০০ গজের মধ্যে ১২টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গুণগত মান ও পরিবেশ উন্নত করার এক সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। নিজস্ব খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও কড়া নিয়মশৃঙ্খলাই এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের পরিচালক মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সময়োপযোগী শিখন পদ্ধতির কারণেই আমাদের শিক্ষার্থীরা এসএসসিতে টানা ভালো ফলাফল করছে।
শিক্ষার এই প্রসার শুধু মেধার বিকাশই ঘটাচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতিও। প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের আবাসস্থল হওয়ায় এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, বেড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলে এলাহী জানান, পাঠদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়ায় চিরিরবন্দর আজ সারা দেশের মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিকে/মান্নান

