Logo

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় পীরকে হত্যায় থমথমে এলাকা, আটক হয়নি কেউ

Icon

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩০

কুষ্টিয়ায় পীরকে হত্যায় থমথমে এলাকা, আটক হয়নি কেউ

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই এলাকায় এখনো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। হত্যার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত ওই দরবারে হামলার ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।

শামিমের বড় ভাই ফজলুর রহমান। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। ফজলুর রহমান বলেন, ‘চোখের সামনে ভাইকে কোপাতে দেখেছি, তার পুরো শরীর রক্তে ভেজা অবস্থায় ছিল। আফসোস, সে যদি কোনো অন্যায় করে থাকত, তার বিচার হতো; কিন্তু এভাবে একজন মানুষকে মানুষ কখনো মারে না।’

ফজলুর রহমান জানান, শনিবার তিনি গ্রামের মসজিদে দুপুরে নামাজ শেষ করে এসে বাড়িতে খাবার খাচ্ছিলেন। এরপর মানুষের হইচই ও শোরগোল শুনতে পান। বাড়ির বাইরে বের হয়ে দেখতে পান, দরবারের সামনে এক থেকে দেড়শ মানুষ ব্যাপক ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং তার ভাইকে দোতলা থেকে টেনে নিচে নামিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাচ্ছে। একপর্যায়ে অন্যান্য মানুষের সহযোগিতায় পুলিশের গাড়িতে করে তার ভাইকে দ্রুত হাসপাতালে নেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হন। তবে তারা শঙ্কামুক্ত।

তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে দরবার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি চলছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পরিবার শঙ্কায় রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান জানান, শামিম নামের ওই ব্যক্তির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাকে কোপানো হয়েছে। চিকিৎসা শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তিনি মারা যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

ফজলুর রহমান জানান, তার ভাইয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাবা ও দাদির কবরের পাশে দাফন করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, আব্দুর রহমান ওরফে শামিম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন— কয়েক বছর আগের ৩০ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও গত শুক্রবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে শামিমের দরবার থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আবেদের ঘাট এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। এরপর দুপুরের পর তারা ওই দরবারে হামলা চালায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই শামিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের পাকা সড়কে শতাধিক মানুষ স্লোগান দিয়ে শামিমের দরবারের দিকে যায়। মিছিলে থাকা লোকজনের একটি অংশ তার দরবারের একতলা দুটি পাকা ভবন ও একটি টিনশেড ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা ভবনের ছাদসহ ঘরগুলোয় ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় ওই দরবারের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ থেকে সাতজন আহত হয়েছেন। অন্যরা দৌড়ে চলে যান। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভান।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন