শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬
মোরেলগঞ্জে বাবা-মেয়ের কৃতিত্ব
মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ২০:২৬
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এ জাতীয় ও খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে মোরেলগঞ্জবাসীর গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন এক শিক্ষক বাবা ও তাঁর মেধাবী কন্যা। বাবা-মেয়ের এই যুগল সাফল্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে মোরেলগঞ্জের শিক্ষা অঙ্গনে। বিশেষ করে মোরেলগঞ্জ সদরের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন মো. জাকির হোসেন। তিনি মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়-এর সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে জাতীয় পর্যায়ে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থী হলেন তাঁরই কন্যা সানজিদা বিনতে জাকির, যিনি মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা-এর ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এ উপজেলা ও জেলা পর্যায় অতিক্রম করে খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক (বিদ্যালয়)’ নির্বাচিত হন শিক্ষক জাকির হোসেন। গত বুধবার খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের পরিচালক (কলেজ) প্রফেসর ড. আনিস আর রেজা এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এর আগে গত ২২ এপ্রিল বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন তাঁকে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা প্রদান করেন।
বাবার ছায়ায় মেয়েরও সাফল্যের দীপ্তি: বাবার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পর্যায়ে নিজের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে সানজিদা বিনতে জাকির। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী (মাদ্রাসা)’ নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি হামদ, নাত ও ক্বিরাত—এই তিনটি ইভেন্টেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সে। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়েও একই ধারাবাহিকতায় সাফল্য ধরে রাখে।
বিভাগীয় পর্যায়ে হামদ ও নাত ইভেন্টে শ্রেষ্ঠ হয়ে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় সানজিদা। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ‘না’তে রাসুল (স.)’ ইভেন্টে সারা দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সে। তার এই অর্জনে মোরেলগঞ্জসহ সমগ্র খুলনা বিভাগের শিক্ষা অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে গর্ব ও আনন্দের আবহ।
আনন্দ, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক: বাবা-মেয়ের এই যুগল অর্জনে মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসা-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো এলাকাবাসী আনন্দিত। আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দনে ভাসছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, “শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা। বিভাগীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিল। আর মেয়ের এই অর্জনে আমি গর্বিত। সে ভবিষ্যতে যেন একজন সুনাগরিক হয়ে দেশের সেবা করতে পারে, এটাই আমার প্রার্থনা।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, মফস্বল শহর থেকেও নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন সম্ভব—জাকির হোসেন ও তাঁর কন্যা সানজিদা তার উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁদের এই সাফল্য স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
বিতক/মান্নান

