গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বৈধ কাগজপত্রে পরিচালিত একটি ইটভাটা দখল, কোটি টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তার মালিকানাধীন “সেভেন স্টার ব্রিকস” নামের ইটভাটা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
মঙ্গলবার রিপোর্টাস ক্লাব রংপুর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার জীবনের সব সঞ্চয়, ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজ দখল হয়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব। পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। তিনি জানান সাঘাটা থানাধীন পূর্ব বাউলিয়া এলাকায় তিনি ও তার অংশীদাররা যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে “সেভেন স্টার ব্রিকস” নামের ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর নথি, মালিকানা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র তার নামে রয়েছে। এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটর বলেও দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ঘুড়িদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ তুলিপসহ তার সহযোগীরা তার কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রথমদিকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আমিনুল ইসলামের বলেন, একপর্যায়ে সেলিম আহমেদ তুলিপ তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে ইটভাটায় প্রবেশ করেন এবং তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ভাটা থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তিনি আর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, “আমি কয়েকবার স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। এমনকি ভাটা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করেছি। কিন্তু প্রতিবারই তারা হামলা, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, আবার ভাটায় গেলে জিম্মি করে মালিকানা লিখে নেওয়া হবে, এমনকি আমাকে হত্যা করা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে অভিযুক্তরা তার ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে উৎপাদিত লাখ লাখ টাকার ইট বিক্রি ও লুটপাট করছে। অথচ ভাটায় ইট উৎপাদনের জন্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ধার করেছিলেন। এছাড়া বাকিতে কয়লা ক্রয় এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির চাপও এখন তার ওপর এসে পড়েছে। তিনি বলেন, পাওনাদাররা প্রতিনিয়ত আমার কাছে টাকা চাইছে। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই যখন আমার নিয়ন্ত্রণে নেই, তখন আমি কোথা থেকে টাকা দেব? আমি আজ সর্বস্বান্ত। ঘটনার পর তিনি একাধিকবার সাঘাটা থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও রহস্যজনক কারণে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে মামলা চলমান থাকলেও অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। জীবনের সব পরিশ্রম দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছিলাম। আজ সেটি দখল হয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার পাইনি। তাই সাংবাদিক ভাইদের কাছে এসেছি। আপনারা সত্য ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরুন, যাতে আর কোনো ব্যবসায়ীকে এভাবে চাঁদাবাজ ও দখলদারদের শিকার হতে না হয়। তিনি প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তার ইটভাটা উদ্ধার, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।এদিকে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সেলিম আহমেদ তুলিপসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মাহবুব আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয় আমি কিছু বলতে পারছিনা, তাই না জেনে কোনো বক্তব্য দিতে পারি না।

