আর মাত্র কদিন পরেই পর্দা উঠছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপের। এ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এর ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। দেশের অলিগলি, শহর থেকে গ্রাম—সবখানে এখন শোভা পাচ্ছে পছন্দের দেশের নানা রঙের পতাকা। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই পতাকা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হলেও, কিছু মানুষের কাছে তা জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ফেরি করে বিভিন্ন দেশের ও নানা আকারের পতাকা বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবেই দেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক বেশি থাকায় এই দুই দেশের পতাকাই বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এর বাইরে জার্মানি, স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের পতাকার চাহিদাও চোখে পড়ার মতো।
আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে কাঁধে ও পিঠের ব্যাগে বিশালাকার পতাকার বাঁশ বেঁধে বিক্রি করতে এসেছেন পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা সম্রাট মুন্সি। আলাপকালে তিনি জানান, দীর্ঘ চারটি বছর তিনি এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। এই সময়ে পতাকা বিক্রি করে অর্জিত আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের মুখে হাসি ফোটে। সম্রাট মুন্সি বলেন, তীব্র রোদ আর গরমের মাঝে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে এক হাট থেকে অন্য হাটে ঘুরে বেড়াতে হয়। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার পতাকা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদে দৈনিক প্রায় ১৫০০ টাকার মতো লাভ থাকে।
ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ আর নিজের জীবিকার মেলবন্ধন ঘটিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মানুষ মনের আনন্দে পছন্দের দলের পতাকা কেনে। আর আমি সেই পতাকা বিক্রি করে পরিবারের সংসার চালাই। বিশ্বকাপ এলে ফুটবলপ্রেমীদের মতো আমাদেরও আনন্দের দিন আসে।’

