Logo

সারাদেশ

কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ৫ বছরের কর অবকাশ চায় সিএসই

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ২০:৩৪

কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ৫  বছরের  কর অবকাশ চায় সিএসই


দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানের বাজার কাঠামো গড়ে তুলতে কমোডিটি সেগমেন্টের জন্য পাঁচ বছরের কর অবকাশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। সংস্থাটির মতে, এ সুবিধা দেওয়া হলে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী পণ্যবাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

রোববার চট্টগ্রামে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, জাতীয় বাজেটে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সময়োপযোগী ও উৎসাহব্যঞ্জক। তিনি জানান, দেশে এখনো এমন কোনো সংগঠিত ও স্বচ্ছ কমোডিটি বাজার গড়ে ওঠেনি, যেখানে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে কার্যকর নির্দেশনা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, সরকারের ঘোষিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যমান লাইসেন্স সক্রিয়করণ, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর পথ সুগম হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সিএসই ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী এবং কোম্পানি সেক্রেটারি রাজীব সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিএসইর এমডি বলেন, দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা। তবে বিশ্বমানের এক্সচেঞ্জ পরিচালনায় বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হওয়ায় কমোডিটি সেগমেন্টের জন্য পাঁচ বছরের কর অবকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন আর্থিক পণ্য চালু, দ্রুত নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান বর্তমানে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রস্তাব করা হলেও তা ১০ শতাংশ করা উচিত। এতে আরও বেশি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে তিন বছরের কর অবকাশ দেওয়ারও প্রস্তাব জানান তিনি।

এছাড়া বিদেশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সেবার বিপরীতে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে সিএসইর এমডি বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর বাজার গঠনে এ ধরনের কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা জরুরি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংস্কারমুখী নীতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং বাজার আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আগামী দিনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বিকে/মান্নান



Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন