শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বিধি মেনেই হিসাব রক্ষকের দায়িত্বে আছেন সাইফুল ইসলাম
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১৩:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিসাব রক্ষক হিসেবে মো. সাইফুল ইসলামের দায়িত্ব পালন নিয়ে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘নাইটগার্ড থেকে হিসাবরক্ষক’ শিরোনামের সংবাদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদটির বাস্তবতা যাচাই করতে সরেজমিনে অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তিনি বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, মো. সাইফুল ইসলাম ১৯৯৭ সালে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা প্রহরী (নাইটগার্ড) হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। সে সময় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অতিক্রম হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ওই পদে যোগ দেন। পরে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০০৩ সালে পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ লাভ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে বদলির মাধ্যমে গাজীপুরে যোগদান করেন। এরপর ২০২০ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয়ের জারিকৃত আদেশ ২০১৮/৪২১৮ স্মারক মুলে গঠিত কমিটি কর্তৃক ২৪/১২/২০১৯ অনুষ্ঠিত সবাই সুপারিশ ক্রমে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেট পদ থেকে পদোন্নতি দিয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই আদেশের আলোকে দায়িত্ব পালন করছেন। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সরকারি নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কাগজপত্রেও এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরিতে যোগদান করেছি এবং পরবর্তীতে যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পাই। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে আমাকে হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি সম্পূর্ণ সরকারি বিধি মেনেই দায়িত্ব পালন করছি। অথচ সরকারি নথি যাচাই না করেই আমার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। যদি আমার নিয়োগ বা দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম থাকত, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনেক আগেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ ওঠার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি আমার সব হিসাব, ভাউচার ও আর্থিক নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তদন্তে অর্থ আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমি সরকারি বিধি অনুযায়ী যথাসময়ে ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ জমা ও হিসাব নিষ্পত্তি করেছি।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে আমার জানা মতে, সরকারি বিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মো. সাইফুল ইসলাম হিসাব রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তদন্ত কমিটি বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাইফুল ইসলামের চাকরিজীবনের ধারাবাহিকতা, সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্ব প্রদানের আদেশ এবং তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উপস্থাপিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, দাপ্তরিক আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার চাকরিজীবনের অগ্রগতি সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই হয়েছে এবং হিসাব রক্ষকের দায়িত্বও তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করছেন। একই সঙ্গে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিও অভিযোগের পরিপেক্ষিতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য, সরকারি নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান সমান গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা জরুরি। কারণ তথ্যনির্ভর, ভারসাম্যপূর্ণ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদই জনস্বার্থ রক্ষা করে এবং পাঠকের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

