Logo

সারাদেশ

বগুড়ার ৮১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই

Icon

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ২১:২৬

বগুড়ার ৮১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  ১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই


দীর্ঘদিন পদায়ন না হওয়ায় বগুড়া জেলার ৮১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকসহ এক হাজার ৩৩৮ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অভিভাবকহীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক স্থবিরতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মান নিয়ে শংসয় প্রকাশ। সেই সাথে শিক্ষার্থীর পাঠদানে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলার ১২টি উপজেলার ৮১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তারা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করাতে পারছেন না।

জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় এক হাজার ৬০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৮৬৫ টিতে। এছাড়া শূন্য রয়েছে সহকারী শিক্ষকের আরও ৪৭৪ টি পদ। সবচেয়ে বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের চরাঞ্চলজুড়ে। সবচেয়ে কম শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে দুপচাঁচিয়া উপজেলায়। সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ধুনট উপজেলায়। আর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে গাবতলী উপজেলায়। এই উপজেলার ১৬৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৪টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে আদমদীঘির ৫৯টি, কাহালুর ৬৪টি, দুপচাঁচিয়ার ২৪টি, ধুনটের ৯৮টি, নন্দীগ্রামের ৬২টি এবং বগুড়া সদর উপজেলার ৩৪টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এছাড়া শিবগঞ্জের ৭৯টি, শেরপুরের ৭৩টি, সারিয়াকান্দির ৯৮টি, সোনাতলার ৭১টি এবং শাজাহানপুরের ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট ঝুলিয়ে রাখার পেছনে উঠে এসেছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এক আইনি জটিলতার খবর।

এছাড়াও চরাঞ্চলের তিন উপজেলায় রয়েছে দেড়শোর বেশি আধাপাকা বিদ্যালয় ভবন। আর পুরো জেলায় সংস্কারের প্রয়োজন এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে অন্তত ২০০টি। এতে করে একদিকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে, অন্যদিকে জনবল সংকটে পাঠদানে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, ‘মূলত ২০১৬ সাল থেকে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পর্যায়ক্রমে শূন্য হতে শুরু করেছে। প্রধান শিক্ষকের এই পদটিতে সাধারণত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি বা পদায়নের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই পদায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। যার ফলে প্রতি বছরই প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।’

এই অচলাবস্থার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যায় “গত ২০১৩-১৪ সালের দিকে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রটি) নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার কারণেই মূলত পদোন্নতি ও পদায়ন বন্ধ হয়ে যায়। দুঃখজনকভাবে, এরপর প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মামলাটির কোনো চূড়ান্ত শুনানি বা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তাছাড়া কয়েক দিন আগে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই এই আইনি জটিলতা কেটে যাবে এবং শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’ বলে দাবী করেন ওই জেলা শিক্ষা অফিসার।

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন