সরিষা চাষে পরশুরামে কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ২০:২৯
-677a972fd6320.jpg)
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় সরিষা চাষে কৃষকদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে। আগস্ট মাসের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কৃষিখাতে বিপর্যয়ের পর কৃষকেরা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। নতুন নতুন ফসল চাষের পাশাপাশি পরশুরামের কৃষকেরা এ বছর গত মৌসুমের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা চাষ করছেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদে পরশুরামে বাম্পার ফলন হতে পারে। এর ফলে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।
গত আগস্ট মাসের ভয়াবহ বন্যায় পরশুরাম উপজেলায় ৪ হাজার ২০৯ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। তবে বন্যার পর কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা এবং কৃষকদের কঠিন পরিশ্রমের ফলে ৮০% ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিন্টু কুমার দাস জানান, পরশুরাম উপজেলায় সরিষা চাষের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষায় লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। গত মৌসুমের তুলনায় এ বছর সরিষা চাষের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়েছে। ফনোদনার পাশাপাশি কৃষকরা নিজে সার ও বীজ ক্রয় করে সরিষা চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে ৪ নম্বর বক্স মাহমুদ ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ২২৬ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে ২৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত বছর এখানে ২৪২ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। আর অর্জিত হয়েছিল ২২৬ হেক্টর।
উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরিষা চাষ করে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হতে পারবেন। আমন ধান কাটার পর প্রান্তিক কৃষকদের তেলজাতীয় বীজ ও ডালজাতীয় বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। প্রায় কোটি টাকার বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। সরিষা চাষে ৭০০ জন কৃষককে উৎসাহিত করতে বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ২৩৪ জন কৃষকের মধ্যে সরিষা বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
এমরান পাটোয়ারী/এমবি