Logo

সারাদেশ

পাইকগাছায় নির্মিত হলো জাপানি প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার

Icon

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ২০:৪১

পাইকগাছায় নির্মিত হলো  জাপানি  প্রযুক্তির পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার

খুলনার পাইকগাছায় প্রথম বারের মতো নির্মিত হয়েছে জাপানি উন্নত প্রযুক্তির পয়ঃ বর্জ্য শোধনাগার। প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট শিববাটী সড়কের পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে পয়ঃ বর্জ্য শোধনাগারটি। দাতা সংস্থা ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর আর্থিক সহায়তায় নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নবলোক পরিষদ। শোধনাগারটি তদারকি ও দেখভাল করবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে শোধনাগার থেকে ৬০ হাজার লিটার বর্জ্য শোধন করা হয়েছে। শোধনাগারের কার্যক্রম ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে বর্জ্য অপসারণে পরিবেশ বান্ধব সর্বোচ্চ নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভা ও সংস্থা কর্তৃপক্ষ। 

কিছু দিন আগে ও মানব বর্জ্য অপসারণ কিংবা শোধনের কোন ব্যবস্থা ছিল না প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায়। ফলে মানব বর্জ্য অপসারণ নিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো পৌরবাসিকে। খরচ এবং সময় দুটোই বেশি লাগতো অপসারণের কাজে। বর্জ্য রাখার নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে নানা সমস্যায় পড়তেন অনেকেই। অনেকের বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ড্রেন হয়ে চলে যেত নদ-নদী ও খাল-বিলে। এতে পরিবেশ দূষণ হওয়ার পাশাপাশি চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দেয়। 

পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের ফলে এখন থেকে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবে না এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্ট পৌর এবং সংস্থা কর্তৃপক্ষ। ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি সুমন সাহা বলেন ১৫ হাজার লিটার বর্জ্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন শোধনাগারটি নির্মাণে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এটি নির্মাণে জাপানি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য ৫০০ লিটার এবং ১০০০ লিটার বর্জ্য বহন সক্ষম দুটি ভেকুট্যাকচার গাড়ি রয়েছে। বাড়িতে কিংবা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করা হবে পয়ঃ বর্জ্য। এরপর সেগুলো ৪ টি ধাপে শোধন করা হয়। শেষ ধাপে শোধনকৃত পানি পাইপের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে যায়। বর্জ্য অপসারণের জন্য লিটার প্রতি ১ টাকা খরচ হবে বলে জানান দাতা সংস্থার এ প্রতিনিধি।  সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন নবনির্মিত পয়ঃ বর্জ্য শোধনাগারের কার্যক্রম পরিদর্শন করে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন এর আগে এলাকায় পয়ঃ বর্জ্য অপসারণের কোন আধুনিক ব্যবস্থা ছিল না। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব। এখন থেকে খুব সহজে এবং স্বল্প খরচে বাসাবাড়ি কিংবা প্রতিষ্ঠানের পয়ঃ বর্জ্য অপসারণ করতে পারবেন পৌরসভার বাসিন্দারা। এছাড়া এলাকার নদ-নদী ও খালবিল দূষণ মুক্ত থাকবে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকবে না এবং রোগ বালাইয়ের প্রকোপ কমে আসবে বলে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী এ কর্মকর্তা জানান। 

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন