Logo

সারাদেশ

উত্তাল সাগরে মাছের দেখা নেই লোকসানে বাগেরহাটের জেলেরা

Icon

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ২০:৪০

উত্তাল সাগরে মাছের দেখা নেই লোকসানে বাগেরহাটের জেলেরা

৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের হাজারো জেলে। কিন্তু সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বেশিরভাগ ট্রলারই কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে আগেভাগেই ঘাটে ফিরে আসছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলেরা।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে ভালো মাছের আশায় তারা সাগরে গেলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা সম্ভব হয়নি। অনেক ট্রলারই নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ফিরে এসেছে। এতে একদিকে জ্বালানি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।

শরণখোলা উপজেলার জেলে মোঃ আল-আমিন শেখ বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক আশা নিয়ে ট্রলার নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু সাগর এতটাই উত্তাল ছিল যে গভীর সমুদ্রে গিয়ে জাল ফেলতে পারিনি। যে পরিমাণ মাছ পেয়েছি, তা দিয়ে তেলের খরচও উঠবে না। বাধ্য হয়ে আগেই ঘাটে ফিরে এসেছি।

মোংলা উপজেলার জেলে আব্দুল করিম গাজী বলেন,আমাদের সংসার পুরোপুরি সাগরের মাছের ওপর নির্ভরশীল। একদিকে দীর্ঘদিন মাছ ধরতে পারিনি, এখন আবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে টিকতে পারছি না। ধারদেনা করে ট্রলার চালিয়েছি, কিন্তু মাছ না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছি। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হবে।

জেলেদের অভিযোগ, একদিকে দফায় দফায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে সুন্দরবন ও সাগর এলাকায় জলদস্যুদের উৎপাতের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছেন না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বৈরী আবহাওয়া। সব মিলিয়ে উপকূলের হাজারো জেলে পরিবারের জীবিকা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এদিকে জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপজনিত প্রভাবে সাগর এখনও উত্তাল থাকায় জেলেদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, বঙ্গোপসাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অনেক জেলে নিরাপত্তার স্বার্থে আগেভাগেই ফিরে আসছেন। বর্তমানে সাগর উত্তাল থাকায় আমরা জেলেদের আবহাওয়ার সর্বশেষ বার্তা অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরার পরামর্শ দিচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের বিচরণক্ষেত্র ও গতিপথে পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ আহরণে পিছিয়ে থাকায় অনেক সময় জেলেরা প্রত্যাশিত পরিমাণ মাছ পান না। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আমরা আশা করছি।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাটে বর্তমানে ১৩ হাজার ৩৮৬ জন নিবন্ধিত সাগরগামী জেলে রয়েছেন। চলতি বছরের ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞাকালে জেলার ৮ হাজার ৬৩৪ জন নিবন্ধিত জেলেকে জনপ্রতি ৭৭ কেজি করে খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়েছে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন