Logo

সারাদেশ

রাজবাড়ীতে মুরগির খামারে বদলে গেছে জাহাঙ্গীরের জীবন

Icon

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৫

রাজবাড়ীতে মুরগির খামারে বদলে গেছে জাহাঙ্গীরের জীবন

বিদেশ যাওয়ার পথে প্রতারণার শিকার হয়ে হারিয়েছিলেন জীবনের মূল্যবান সময় ও সঞ্চয়। কিন্তু হতাশ না হয়ে ভিন্ন পথে এগিয়ে গিয়ে আজ সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বড়বাংলাট গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০)। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে বিদেশি ৪০ প্রজাতির প্রায় দেড় শতাধিক মুরগি। এসব বিরল প্রজাতির মুরগি দেখতে প্রতিদিনই ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীরা ভীড় করছেন। জাহাঙ্গীর হোসেন কালুখালী উপজেলার বোয়ালীয়া ইউনিয়নের বড়বাংলাট গ্রামের মৃত আমীর হোসেনের ছেলে। পিতার মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি তিনি। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দালালের প্রতারণার শিকার হন। এরপর ২০১৬ সালে

ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের মুরগির খামার পরিদর্শন করে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে মাত্র চার জোড়া বিদেশি মুরগি দিয়ে ছোট পরিসরে খামার শুরু করেন। ধীরে ধীরে সংগ্রহ বাড়িয়ে আজ তিনি গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমধর্মী একটি বিদেশি মুরগির খামার। তার খামারে রয়েছে উইনডট, কসমো, বেলজিয়ান বিয়ার্ড, সিলভার লেস, সেরেমা, ইয়োকোহামা, মডার্ন গেম, সুমাত্রাসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির বিদেশি মুরগি। এসব মুরগির জোড়া প্রজাতিভেদে ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এছাড়া খামারে রয়েছে ময়ূর। প্রতি জোড়া ময়ূর প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তিনি। দেশের বিভিন্ন পার্ক, ব্যক্তিগত সংগ্রাহক এবং সৌখিন ক্রেতারা অনলাইনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মুরগি ও ময়ূর কিনে থাকেন।

খামারে আসা দর্শনার্থী রোমানা ইসলাম, আবু হায়দার, সমশের আলী, সাখাওয়াত হোসেন, বিপ্লব সিকদার, রোজিনা আক্তার, রেশমা খাতুন, তাসলিমা আক্তার, হৃদয় হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বলেন, এক জায়গায় এত বৈচিত্র্যময় বিদেশি প্রজাতির মুরগি আগে কখনও আমরা দেখিনি। জাহাঙ্গীরের উদ্যোগ দেখে অনেক তরুণ খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।

খামারি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ্য়ঁড়ঃ;বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছিলাম। পরে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের মুরগির খামার দেখে অনুপ্রাণিত হই। দেশে ফিরে চার জোড়া বিদেশি মুরগি দিয়ে খামার শুরু করি।

এখন দেশের সবচেয়ে বেশি বিদেশি জাতের মুরগি সংগ্রহকারী হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখছি।্ কালুখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম রতন বলেন, জাহাঙ্গীরের খামারে বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির পাখির পাশাপাশি দেশি হাঁস- মুরগিও রয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে নিয়মিত খামারটি পরিদর্শন করা হয়। খামারকে আরও লাভজনক করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকাদান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেনের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু তার নিজের ভাগ্যই বদলায়নি বরং এলাকার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখন তার লক্ষ্য বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নেওয়া।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন