সখীপুরে দুই গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা ঝ সাঁকো
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ২০:৫৬
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বাশারচালা ও কাকড়াজান ইউনিয়নের মরিচকুরি গ্রামে অবস্থিত মরিচকুঁড়ি খালের উপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকো ওই দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। বাঁশের সাকোর উওর পাশে রয়েছে মরিচকুরি ও জিতাশ্বরী গ্রাম দক্ষিণে রয়েছে সাড়াশিয়া, বাশারচালা ও নয়ারচালা গ্রাম। পশ্চিমে মহানন্দপুর ও পূর্বে রয়েছে সাড়াশিয়া গ্রাম। যখন আধুনিকায়ন ছিল না তখন গ্রামের মানুষজন এ রকম বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে পারাপার হতো। কিন্তু আধুনিকায়নের এই যুগেও স্থানীয় এই দুই গ্রামের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি এই খালের উপরে একটি পাকা সেতু। প্রতিদিন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ এই বাঁশের সাকো দিয়ে যাতায়াত করে।
সরেজমিনে দেখা যায় সেতুটির পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই রয়েছে মহানন্দপুর বিজয় স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, মহানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিতাশ্বরী দাখিল মাদরাসা, জিতাশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাড়াশিয়া বাশারচালা উচ্চ বিদ্যালয়, সাড়াশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাকো পারাপার হয়ে স্কুল ও মাদরাসায় যাতায়াত করে। এছাড়াও মহানন্দপুর ও বাশারচালা বাজারে প্রতি সোমবার ও বুধবার গ্রাম্য হাট বসে মরিচকুরি ও বাশারচালা গ্রামের হাজারো মানুষের অবাধে যাতায়াত ও গ্রাম্য হাট থেকে বাজারঘাট করতেও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
দুই গ্রামের মানুষের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এছাড়াও গ্রামের বৃদ্ধ মানুষ ও জরুরী রোগী সহ প্রায় হাজারো মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মরিচকুঁড়ি এলাকার এই খালের ওপর নির্মিত সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। ওই দুই গ্রামের অনেকেই বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। সর্বোপরি সখীপুরের মরিচকুচি ও বাশারচালা গ্রামের মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা তাঁদের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত খালের উপর একটি ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে যার সুফল স্বরুপ এলাকার মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসবে।
কাকড়াজান ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আমীর হামজা সিকদার বলেন, এই দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের এই দুর্ভোগলাগবে খুবই তারাতাড়ি একটি ব্রীজ নির্মাণ খুবই জরুরী। মানুষের দুর্ভোগ লাগবের কথা চিন্তা করে আমি আমার নিজ খরচে খালের উপর সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য একরি বাঁশের সাকো নির্মাণ করে দিয়েছি।
মহানন্দপুর গ্রামের বাসীন্দা ও স্কুল শিক্ষক আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, আমি ওই বাঁশের ঝুঁকিপূর্ণ সাকো দিয়ে কয়েকবার পারাপার হয়েছি। আমি এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাকো দিয়ে পারাপারকৃত জনসাধারণের ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ও বয়স্ক মানুষের কষ্ট দেখেছি। এ পারাপারের কষ্টে আমি ব্যথিত হয়েছি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কে অনুরোধ করবো দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের যাতায়াত সহজবোধ্য করার জন্য একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হোক।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সাঁকোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিকে/মান্নান

