Logo

সারাদেশ

ভুয়া দলিলে নামজারি. তবু ‘শ্রেষ্ঠ’ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা!

Icon

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৩

ভুয়া দলিলে নামজারি.  তবু ‘শ্রেষ্ঠ’   উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা!

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে নামজারি প্রস্তাব ও অনুমোদনে ভূমিকা রৃাখার অভিযোগ থাকলেও তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ‘শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা’ হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন। অনিয়মের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নির্বাচিত করা হয়। গত সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার পদারকোনা মৌজার সাতজন জমির মালিকের নামে প্রয়োজনীয় ও সঠিক কাগজপত্র যাচাই ছাড়াই ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে নামজারির প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পরে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল নামজারিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট নামজারির নম্বর ২৫-৬৪৩।

অভিযোগ রয়েছে, ওই নামজারির ভিত্তিতে জমির মালিকরা জমি বিক্রি করেন। পরে ক্রেতাদের নামে দলিল সম্পাদনের জন্য উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও দলিল লেখক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রহিছ মিয়ার যোগসাজশে আরেকটি ভুয়া দলিল তৈরি করা হয়। গত ২৫ জুন দলিলটি নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দাখিল করা হলে নথিপত্রে অসংগতি ধরা পড়ে। এরপর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান জাল দলিলসহ সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ করেন। একই সঙ্গে ভুয়া দলিল নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগে দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভূমি সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো নামজারির প্রস্তাব অনুমোদনের আগে প্রয়োজনীয় দলিল ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান প্রয়োজনীয় যাচাই ছাড়াই নামজারির প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তী সময়ে সেটি অনুমোদনও হয়।

এদিকে এমন অভিযোগ সামনে আসার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে বরং শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার স্বীকৃতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি মাঘান ইউনিয়ন থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে ফতেপুর ইউনিয়নে কর্মরত আছি। তখন সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতেই নামজারির প্রস্তাব করা হয়েছিল। তখন তো আপনারা (সাংবাদিকরা) সেখানে ছিলেন না।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার বলেন, “এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাকে কীভাবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য ইউএনও স্যার আমাকে নিষেধ করেছেন।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন