Logo

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় স্কুেল হাঁটু পানি ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

Icon

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৩

কুষ্টিয়ায়  স্কুেল হাঁটু পানি  ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম


কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শিল্পনগরীখ্যাত আল্লারদর্গা এলাকার ঐতিহ্যবাহী আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা এলেই দেখা দেয় চরম জলাবদ্ধতা। হাঁটু পানির মধ্যেই চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নিচতলার শ্রেণিকক্ষগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানিতে ডুবে আছে পুরো খেলার মাঠও। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই ক্লাস করছে।

১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এলাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে টেসল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আল্লারদর্গা বাজার শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত; এখানে রয়েছে বৃহৎ গরুর হাট, বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকে। বছরের অধিকাংশ সময় মাঠটি ব্যবহারের অনুপযোগী থাকে এবং বর্ষা মৌসুমে সেই পানি শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষেও ঢুকে পড়ে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে এবং শিক্ষার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নোংরা পানির কারণে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। হাঁটু পানিতে বসে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে হয়। অনেক সময় বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশটি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে ওঠে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাছকিয়া আক্তার বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের শ্রেণিকক্ষ, কমনরুম ও শিক্ষকদের অফিসে হাঁটু পানি জমে যায়। বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস ভিজে যায়। সারাদিন ভেজা অবস্থায় থাকতে হয়। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হয়। অনেক দূরের শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চায় না। আমরা এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান চাই।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রিহান বলেন, আমাদের ক্লাসরুমে পানি ঢুকে গেছে। প্রতিবছর এমন হয়। আমার কয়েকজন বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অনেকে স্কুলেও আসে না। এতে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ নীরব বলেন, বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠে পানি জমে থাকে। পানি নেমে গেলেও কাদা, শামুক ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের কারণে খেলাধুলা করা যায় না। খেলতে গিয়ে হাত-পা কেটে যায়। আমাদের খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেকে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, প্রতিবছর আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলেই শ্রেণিকক্ষ ও অফিস কক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, মেধা বিকাশ ও নিয়মিত পাঠগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই বিদ্যালয় থেকে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ পানি নিষ্কাশনের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে এই দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব এখানে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পাঠদান ও পাঠগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগজনক। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন