মানবেতর জীবন যাপন
স্বামী সন্তান হারা খুশি রানী দাসের
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৩
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বৃদ্ধা খুশিরানী দাস মানবেতর জীবনযাপন করছেন, দেখার যেন কেউ নেই ।
জানাগেছে, উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের রামনগরগ্রামের মৃত কালীপদ দাসের মেয়ে খুশি রানী। নাম খুশি হলেও তার সারাটি জীবনই অসুখী। দেশ স্বাধীনের আগে তার বিয়ে হয়েছিল মানিকগঞ্জের আটিগ্রামের স্বামী অমূল্য দাসের সাথে। দুটি সন্তান হলেও বাঁচেনি বেশিদিন। অন্যদিকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চিকিৎসার অভাবে কলেরায় স্বামী মারা যান।
স্বামী সন্তান
হারিয়ে খুশি রানী দাস দিশেহারা হয়ে পড়েন। শুরু
হয় খুশির সংগ্রাম ও দুঃখের জীবন। নেই চাষের জমি, মাথা গুজার ঠাঁই, অন্যের বাড়িতে বসবাস
করেন তিনি। যে ঘরটিতে থাকেন সে ঘরটিও জীর্ণশীর্ণ। ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁকে
কুকুর বিড়াল আসে। একটু বৃষ্টি হলে পানি পড়ে অনেক সময় নির্ঘূম রাত কাটে তার।
খুশিরানী জানান, অল্প বয়সে বিয়ে হয়। স্বামী
মারা গেলে বেশি দিন সংসার করা হয়নি। বাবার আর্থিক অসচ্ছতা সংসারে চলি আসি। বাবা মা
কষ্ট করে ভরণপোষণ করলেও তারা মারা যাওয়ার পর নিরুপায় হয়ে পরে। তখন পেটের দায়ে অন্যের
বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন খুশিরানী দাস। দুই যুগ ঝিয়ের কাজ করে কোনো রকম পেটের ভাত
জোগাড় করতেন। এখন কেউ নিজের ইচ্ছায় কিছু দিলে
খাই না দিলে না খেয়েই থাকি। মেম্বার ও চেয়ারম্যানকে কত বললাম এটা কার্ড দিতে আশ্বাসও
দিয়েছিল কিন্তু তা কপালে জুটলোনা।
প্রতিবেশী ঝর্ণা বলেন, খুশিরানী দীর্ঘদিন
ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে, তারা সনাতন ধর্মালম্বী। তাদের জাত ভাইরা কেউ দেখেন না।
আমরা যখন যতটুকু পারি সহায়তা করি।
সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রওশন আলী মন্ডল
বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ হতে জানলাম, অসহায় খুশিরানী দাসকে বিধি মোতাবেক সরকারি সাহায্য
করা হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

