ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশুর সন্তান
ডিএনএ পরীক্ষা বলছে, সেই মাদ্রাসা শিক্ষকই বাবা
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৪
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশুটির গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানের বাবা অভিযোগ ওঠা সেই মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরই। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের তথ্যে তা নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল দাবি করেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমার মতামত নেওয়ার জন্যে আসেন। তখন ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির পরীক্ষার প্রতিবেদনটি আমি দেখি। প্রতিবেদনে ১১ বছরের শিশুটির সন্তানের ও আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে। অর্থাৎ ১১ বছরের শিশুটির কন্যাসন্তানের ‘জৈবিক বাবা’ আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এটি প্রমাণিত হয়েছে।
আইনজীবী বলেন, মঙ্গল-বুধবারের মধ্যে আদালতে ডিএনএ প্রোফাইলের প্রতিবেদনসহ অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। আশা করছি, অভিযোগপত্র দাখিলের ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করে চিকিৎসক শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। পরে ২৩ এপ্রিল তার মা বাদী হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সাগর। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।
নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই আদালতে আবেদন করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

