Logo

সারাদেশ

এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম

আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে

Icon

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০০

আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে

ছবি: সংগৃহীত

‘প্রশাসনের একটি প্রভাবশালী অংশ এই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এখনই যদি এই দায়িত্বজ্ঞানহীন চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সামনে আমাদের জন্য ঘোর অন্ধকার অপেক্ষা করছে।’

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লিখেছেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে তিনি এই পোস্ট দেন।

ফেসবুক পোস্টে শাহাদাত হোসেন সেলিম লেখেন, ‘গত শুক্রবার রাত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থেকে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ারচর পর্যন্ত টানা ৩২ ঘণ্টার এক তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে পথঘাট। এতে সাধারণ যাত্রীরা এক অবর্ণনীয় ও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন। এই দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্সে আটকা পড়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, আর সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে অনেক প্রবাসী মিস করেন তাদের নির্ধারিত বিমান।’

এই দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল সভা করেন বলে জানান শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘হুইপ মহোদয়ের পাশে বসে পুরো মিটিংটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময় ও চরম হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করলাম— এত বড় একটি ঘটনা ও মানুষের অসীম দুর্ভোগের পরও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা ছিল না।’

এই পরিস্থিতি দেখে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উন্নয়ন সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে উল্লেখ করেছেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। সেলিম লেখেন, ‘তিনি (হুইপ) মন্তব্য করেন, সেতু সংস্কারের আগে আগাম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সংবাদপত্র, টিভি স্ক্রল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকে প্রচার চালানো হলে যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারতেন এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো যেত।’

ফেসবুক পোস্টে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহি না থাকা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন শাহাদত হোসেন সেলিম। তিনি লেখেন, ‘জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও চরম দায়িত্বহীনতার অপরাধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।’

শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। গত আগস্টেও এক ফেসবুক পোস্টে শাহাদাত হোসেন সেলিম লিখেছিলেন, ‘প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোসররা ওত পেতে বসে আছে। তারা সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। আমাদের সব প্রচেষ্টাকে স্থবির করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা সরকারকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। সরকারকে সতর্ক করতেই আমি বারবার বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরছি। এখন সরকারের উচিত এসব অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা।’

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন