নিকলীতে ইউএনও-এসিল্যান্ড-ওসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৯
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় খালী আছে খোদ নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর পদ। নেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এসিল্যান্ড। আরো নেই নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য অফিস প্রধানের পদ খালি।
গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি থাকায় এখন হুমকির মুখে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা। প্রাপ্যসেবা থেকে বঞ্চিত উপজেলাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।
জানা যায়, গত ২৮ জুলাই নিকলী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বদলি হন। এর পর থেকে ওসি’র দায়িত্বে রয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ গত ১৭ই মে বদলি হন। তার বদলির পর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনা মজুমদার মুক্তি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ২৫ আগস্ট রেহেনা মজুমদার মুক্তির মাতৃত্বজনিত ছুটি ও বদলির কারণে প্রধান দুটি পদ খালি হয়ে যায়।
এক মাস ধরে খালি নিকলী সরকারি মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ পদ। এক বছর ধরে খালি নিকলী জিসি মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ। একইভাবে এক বছর ধরে জারইতলা স্কুল এন্ড কলেজ, ৯ বছর ধরে এবি নূরজাহান উচ্চ বিদ্যালয়, এক বছর ধরে মজলিশপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, এক বছর ধরে ছাতিরচর উচ্চ বিদ্যালয়, সাড়ে তিন বছর ধরে মোহরকোণা আশরাফিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রধান পদ খালি হয়ে আছে।
এছাড়া উপজেলার ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে আছেন ২৫ প্রধান শিক্ষক। ৬ জন রয়েছেন চলতি দায়িত্বে। ২৯ বিদ্যালয়েই রয়েছে ভারপ্রাপ্তের ভারে।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকার কথা একজন প্রশাসনিক কমর্কর্তাসহ ২৯ জন চিকিৎসক। কাগজে-কলমে রয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে তিনজন আবার ডেপুটেশনে। ২৯ চিকিৎসকের স্থলে রয়েছেন মাত্র ৭জন। ফলে উপজেলাটির স্বাস্থ্যখাত রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।
স্থানীয়রা বলছেন, দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় জনভোগান্তি এখন চরমে। দ্রুত এসব পদ পূরণে পদক্ষেপ না নিলে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়বে।
বিকে/মান্নান

