১৫ বছরেও সংস্কার হয়নি বারাকপুর-ফয়লা সড়ক
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৪
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর থেকে ফয়লা বিমানবন্দর পর্যন্তগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের সড়কে। প্রায় ১৫ বছর ধরে বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বৃষ্টিতে এসব গর্তে জমছে কাদা-পানি, আর শুকনো মৌসুমে উড়ছে ধুলা। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী, চালক ও যাত্রীসহ হাজারো মানুষ।
সড়কটি শুধু বারাকপুর ও ফয়লা এলাকার মানুষের যাতায়াতের পথ নয়, এর মাধ্যমে গিলাতলা, রামপাল, মোংলাসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সহজে যাতায়াত করা যায়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে সড়কটির বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি।
মাঝেমধ্যে গর্তে ইট-খোয়া ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করা হলেও কয়েকদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে দিন দিন সড়কটির অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বারাকপুর থেকে ফয়লা বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে মাটি বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ছোট যানবাহনগুলোকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যাত্রীবাহী মাহেন্দ্র, ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে দেখছি এই রাস্তার ঠিকমতো সংস্কার হয় না। মাঝে মধ্যে ইট-খোয়া ফেলে দিয়ে যায়, এই পর্যন্তই। অনেক সময় আমরা নিজেদের অর্থায়নে রাস্তার কিছু অংশ ঠিক করি। আমাদের একটাই চাওয়া—রাস্তাটা ভালো করে সংস্কার করা হোক। তাহলে মানুষ সহজে চলাচল করতে পারবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জামাল বলেন, “বাগেরহাট থেকে সহজেই গিলাতলা, রামপাল, মোংলা ও ফয়লাসহ বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু রাস্তা ভাঙার কারণে এখান দিয়ে গাড়ি চলতে চায় না। অনেক সময় সাত-আট এলাকায় যাওয়া যেত।
মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে। মাহেন্দ্র থেকে পড়ে গিয়ে যাত্রীর মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাই।”
স্থানীয় দোকানদার শফিকুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টির সময় রাস্তার কাদা ছিটকে দোকানের ভেতর পর্যন্ত চলে আসে। আবার শুকনো সময়ে ধুলায় দোকানে বসা কঠিন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই সমস্যার মধ্যে আছি। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার।”
পিসি কলেজের শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে আমাদের কলেজে যেতে হয়। কলেজের পোশাক পরে বের হলে রাস্তার কাদা ছিটে পোশাক নোংরা হয়ে যায়। হেঁটে গেলেও কাদা লাগে, গাড়িতে গেলেও কাদা ছিটে। প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার চাই।”
ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ বলেন, “আগে এই রাস্তা দিয়ে ভ্যানে অনেক মানুষ উঠত। এখন রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় মানুষ উঠতে চায় না। ভ্যানে চলাচল করলে যাত্রীদের কোমরে ব্যথা হয়। আগে একসঙ্গে ১০-১২ বস্তা মালামাল নেওয়া যেত, এখন তিন-চার বস্তার বেশি নেওয়া যায় না। বেশি মাল নিলে গর্তে পড়ে ভ্যানের স্পোক, বিয়ারিংসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমাদের আয়ও কমে গেছে।”
যাত্রী রায়হান বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। বড় গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সও দ্রুত আসতে চায় না। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইমন বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন অবস্থা থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত সংস্কার না হলে সামনে বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
স্থানীয়দের দাবি, বারাকপুর থেকে ফয়লা বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কটি বাগেরহাট সদর উপজেলার সঙ্গে গিলাতলা, ফয়লা, রামপাল, মোংলাসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সড়কটি সংস্কার করা হলে এসব এলাকার
মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ এখন যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে। তাই দ্রুত সড়কটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন,“সড়কটির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটিরবর্ধিতকরণ ও সংস্কারের কাজ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এলজিইডির দেওয়া এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন করে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। পাশাপাশি গিলাতলা, ফয়লা, রামপাল ও মোংলাসহ বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
বিকে/মান্নান

