Logo

সারাদেশ

নীলফামারীতে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন

Icon

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২৩

নীলফামারীতে আউশ ধানের   ভিত্তি বীজ উৎপাদন

জেলা শহরের গাছবাড়ী এলাকার কৃষি খামারটি আলুর ভিত্তি বীজের পাশাপাশি এবার ৩০ একর জমিতে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করে সফলতা দেখিয়েছে নীলফামারী কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)।

ওই জমিতে ৪৫ মেট্রিক টন (এক হাজার ১২৫ মন) ধানের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে বিএডিসি কতৃপক্ষ। যা নীলফামারীর চাহিদা মিটয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় সরবারহ করা সম্ভব।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি বছর নীলফামারীতে এক হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। এতে ফলন হবে ৫ হাজার ৫৯৫ মেট্রিক টন। গত বছর আউশের আবাদ হয়েছিল,এক হাজার ৮৮১ হেক্টর জমি। আর উৎপাদন হয়েছিল পাঁচ হাজার ৫৬৮ মেট্রিকটন। এবার উৎপাদন ও ফলন দুটোই ভাল হয়েছে। এর বাহিরেও বিএডিসি ৩০ একর জমিতে ভিত্তি বীজের চাষ করেন।

বিএডিসি কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ভিত্তি আলু বীজ (৫০ একর) চাষের পর এই খামারে প্রতিবছর গমও চাষ করা হতো। খামারে জমির পরিমান ১০১.৪৭ একর। তবে ধানের চাষ বেড়ে যাওয়ায় গমের চাষ অনেকটাই কমে গেছে।

সুত্র জানায়, বীজ ছাড়াও খামারে ধান পাওয়া যাবে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার ওপরে। উৎপাদিত ভিত্তি বীজ দিয়ে আউশের আবাদ করা যাবে প্রায় ১০ হাজার একর জমি।

এবার ওই জমিতে আউশের ভিত্তি বীজ উৎপাদনে ব্রি-৯৮ ধানের আবাদ করা হয়। এতে করে একদিকে খড়া সহিষ্ণু আউশ ধান বীজের সংকট কাটবে ও বোরো আমন মৌসুমে কর্মহীন কৃষি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়াও, জমির উর্বতা শক্তি বৃদ্ধি পাবে, বীজ আলু আবাদে জমির চাষ কম লাগবে, রোগ বালাই কম হবে।

খামারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে সোনালী পাকা ধানের শীষ দোল খাচ্ছে বাতাসে। কোথাও আবার হারভেস্ট মেশিন দিয়ে কাটা হচ্ছে ধান। সেই জমিতে ভিত্তি আলু বীজ উৎপাদনের প্রস্ততিও চলছে।

খামারের উপ-সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘আগে খামারে বছরে ভিত্তি বীজ আলু ও গম হতো। আর এখন ভারতীয় পেঁয়াজ (জাত নাসিক এম-৫৩) ও আউশ বীজ ধানের আবাদ শুরু হওয়ায় বছরে চার প্রকারের বীজ উৎপাদন হচ্ছে। এই জাতের পেঁয়াজ ১১৫-১২০ দিনে ঘরে তোলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, “এবার ৩০ একর জমিতে আউশ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হয়েছে। ওই পরিমান জমিতে ৪৫ মেট্রিক টন বীজ ধান উৎপাদনের আশা করছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। প্রতিটন বীজের মূল্য ৪৫-৫০ হাজার টাকা দরে যার বিক্রয় মূল্য দাঁড়াবে ২০ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার ওপরে। বীজ ছাড়াও খামারে ধান পাওয়া যাবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মেট্রিক টন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার টাক।”

এছাড়াও, খামারে অসময়ে ধান আবাদে প্রায় ৬০-৭০ জন কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বোরো ও আমন মৌসুমে কর্মহীন হয়ে পড়া কৃষি শ্রমিকরা প্রতিদিন কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াসহ খুশি তাদের পরিবার পরিজন।

জেলা শহরের পুরাতন স্টেশন পাড়ার বাসিন্দা ও খামারের কৃষি শ্রমিক আনোয়ার হোসেন (৪৫) বলেন, ‘আমরা ৬০-৭০জন শ্রমিক চাকুরিজীবির মতো বেতন পাচ্ছি। প্রত্যেক মাসে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। খামারে আউশ ধানসহ বীজ পেঁয়াজের আবাদ হওয়ার সুবাদে কাজ করতে পারছি। এবারে আশ্বিন, কার্তিক মাসের অভাবও কেটে যাবে ইনশাল্লাহ।’

একই খামারের কৃষি শ্রমিক আবুল হোসেন, খোরশেদ আলম, শরিফুল ইসলাম ও অবিনাশ রায় বলেন, ‘এক সময় ভাদ্র-আশ্বিন মাসে খামারে কোনও কাজ থাকতো না। তখন ছেলেমেয়ে নিয়ে অভাব অনাটনে থাকতে হতো। এবার খামারে চার প্রকারের (আমন,বোরো,আউশ,পেঁয়াজ) বীজ উৎপাদন হওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, গ্রীস্মকালিন চাষযোগ্য (ভাদ্র,আশ্বিন) ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের বীজের চাষ হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে গেছে।’

খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মো. হারুন বলেন, “আগে শুধু আলুর বীজ উৎপাদন করা হতো। আউশ আবাদের পর ওই জমিতে ব্যাকটেরিয়া জাতীয় রোগ-বালাই কম হয়। মানসন্মত আউশ বীজ চাষে সেচ খরচ নেই বললেই চলে। ক্ষেতে আগাছা কম হয়। এছাড়াও উঁচু জমিতে আবাদ করা যায়। ১১৫ দিনের মধ্যে খামারে বীজ ধান তোলা যায়।

তিনি আরও বলেন, “দেশে এই প্রথম নীলফামারীতে ভারত থেকে গ্রীস্মকালিন পেঁয়াজের বীজ এনে পরীক্ষামুলকভাবে চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় এই বীজ সরবারহ করা যাবে বলে মনে করেন তিনি। বীজ উৎপাদনে কৃষির ওপর যেমন প্রভাব পড়বে, তেমনি কৃষি শ্রমিকের কাজের পরিধিসহ মাসিক আয় বাড়বে।”

এ ব্যাপারে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, ‘এবার ভারতীয় নতুন জাতের পেঁয়াজের বীজ (নাসিক এম ৫৩) বিএডিসির খামারে উৎপাদিত হচ্ছে। সল্পমূলে অল্প সময়ে হাতের কাছে আউশ ধানের বীজসহ চার প্রকারের পাওয়া যায়। অল্প সেচেই বেশী ফলন হয়। সে কারণে উৎপাদন খরচও কম। পেঁয়াজ ও আউশ উত্তোলন করে ওই জমিতে আগাম আলুসহ শীতকালীন সবজি চাষ করা যায়। এতে কৃষক বেশি লাভবান হবে।’

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন