Logo

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় ফলন ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে নারিকেল চাষিরা

Icon

খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২০

কুষ্টিয়ায় ফলন ব্যাহত হওয়ায়   বিপাকে নারিকেল চাষিরা

কুষ্টিয়ার খোকসায় দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নারিকেল গাছে কাঙ্খিত ফলন মিলছে না।কালের বিবর্তনে ধ্বংসের মুখে খোকসার নারকেল কৃষকেরা।  ফলে উপজেলার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নারিকেল গাছই এখন অকেজো ও ফলহীন অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করে লাভ না হওয়ার কারণেই অনেক কৃষক  মুখ থুবরে নিচ্ছে। খোকসার বিভিন্ন অঞ্চলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়   বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা রাস্তার ধারের নারিকেল  গাছ থেকে কাঙ্খিত  অর্থ  না হওয়ায় চাষিদের মুখে এখন আর হাসি নেই। কাঙ্খিত  ফলন না মেলায়   অনেকেই বাধ্য হয়ে পুরোনো গাছ কর্তন করে  ফেলছেন। লোকসান হওয়ায়   নতুন করে দেশীয় নারিকেল গাছের চারা রোপণে চরম অনীহা তৈরি হয়েছে। তবে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে   শখের বশে কেউ কেউ হাইব্রিড   ভিয়েতনামী জাতের নারিকেল চারা রোপণ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, খোকসার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ৯ হাজার ৪৮০টি নারিকেল গাছ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ রয়েছে ওসমানপুর (১,৩০০টি), শিমুলিয়া (১,২৫০টি), শোমসপুর (১,১৫০টি) এবং পৌরসভা এলাকায় (১,১৭৫টি)। এছাড়া খোকসা ইউনিয়নে ১,১২০টি, জয়ন্তীহাজরায় ৮৫০টি, গোপগ্রামে ৭২৫টি, বেতবাড়িয়ায় ৭০০টি, জানিপুরে ৬৫০টি এবং আমবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৫৬০টি গাছ রয়েছে। তবে পরিসংখ্যানের সিংহভাগ গাছই এখন ফলশূন্য।

স্থানীয় চাষিরা জানান, গাছে ফুল ও গুটি এলেও তা অল্প দিনের মধ্যে ঝরে পড়ে। এছাড়া গাছের মাছি ও কচি পাতা গজানোর পরই তা শুকিয়ে পচে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, ফল ঝরে পড়ার ভয়ে অনেক চাষি কচি থাকতেই ডাব বিক্রি করে দিচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিটি ডাব ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একসময় শোমসপুর ও জানিপুর বাজারে ঢাকা থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে নারিকেল কিনতে আসতেন। এখন সেই বাজারগুলোতে নারিকেলের ব্যবসা একপ্রকার বিলুপ্ত। বর্তমানে দু-একজন চাষি বাজারে নারিকেল আনলে প্রতিটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১১০ টাকা।

সামনেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা। পূজায় নারিকেলের প্রচুর চাহিদা থাকলেও বাজারে এখন তীব্র সংকট। প্রতি জোড়া নারিকেল কিনতে ক্রেতাদের আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের কাছে বায়না বা অর্ডার দিয়ে রাখতে হচ্ছে। স্থানীয় নারিকেল ব্যবসায়ী প্রদীপ পোদ্দার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে ট্রাকে লোড দিয়ে তেল কোম্পানির জন্য ঢাকায় নারিকেল পাঠাতাম। আর এখন সপ্তাহে বাজারে মাত্র ৮-১০টি নারিকেল মেলে, যা দিয়ে স্থানীয় চাহিদাই পূরণ হচ্ছে না।”

কৃষকদের একাংশের মতে, এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসানোর পর থেকেই এ সমস্যা প্রকট হয়েছে।   নারিকেল গাছি সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, টাওয়ারের তরঙ্গের কারণেই হয়তো ফলন আসছে না।

তবে মোবাইল টাওয়ারের বিষয়টি নাকচ করে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন বলেন, “টাওয়ারের কারণে ফলন না হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূলত দীর্ঘকাল ফল নেওয়ার পরও চাষিরা গাছে সুষম সার ব্যবহার না করায় গাছগুলো পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। বর্ষার শুরুতে ও শেষে নিয়ম মেনে সার ব্যবহার করা জরুরি।”

 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, মাইজ পোকার আক্রমণ ও ভাইরাসের কারণে নারিকেলের গুটি ঝরে পড়ে এবং কচি পাতা পচে যায়। এ ক্ষেত্রে বোরন সার প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে করলে সুফল পাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে তিনি কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন