Logo

সারাদেশ

বরিশালে সমকাল কার্যালয়ে সাবেক ব্যুরো প্রধানের ঝুলন্ত লাশ

Icon

বরিশাল ব্যুরো

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৮

বরিশালে সমকাল কার্যালয়ে সাবেক ব্যুরো প্রধানের ঝুলন্ত লাশ

ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল নগরীতে দৈনিক সমকাল কার্যালয় থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার এসআই মেহেদি হাসান বলেন, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে খবর পেয়ে আমরা পেয়ারা রোডের ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আসি। সেখানে সমকাল কার্যালয়ে রশি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার লাশ পাওয়া গেছে।

ওই ভবনের দোতলা-তিনতলা মিলিয়ে যুগান্তর, আলোকিত বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় রয়েছে।

৫৭ বছর বয়সি পুলক চ্যাটার্জি একসময় সমকালের ব্যুরো প্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের দিকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। তারপর থেকে তিনি বেকার ছিলেন। পুলক চ্যাটার্জি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পুলক চ্যাটার্জি নগরীর কালীবাড়ি রোড এলাকার বিশ্বপতি চ্যাটার্জির ছেলে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জি বলেন, চাকরি না থাকার কারণে আমার ভাই কিছুটা হতাশ ছিলেন। সে কারণেও এটি হতে পারে। 

ঘটনাস্থলে থাকা পুলকের স্ত্রী নিলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, চাকরি হারানোর পর থেকে তিনি হতাশ ছিলেন। কিন্তু এ কারণে আত্মহত্যা করবেন, সেটি কেউ ভাবিনি।

সমকালের ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কার্যালয়ের একটি বিকল্প চাবি পুলক চ্যাটার্জির কাছে ছিল। তিনি মাঝে মাঝে অফিসে এসে বসতেন।

দৈনিক যুগান্তরের সাংবাদিক এস এম পলাশ বলেন, আমাদের অফিস তিন তলায়। দাদাকে দেখতাম মাঝে মাঝে এখানে এসে বসতেন, পত্রিকা পড়তেন। আজ সন্ধ্যার দিকে সমকালের সাংবাদিক সুমন চৌধুরী এসে বললেন, বৌদি ফোনে পুলক দাদাকে পাচ্ছিলেন না। তাই একটু খুঁজে দেখতে। এরপর তিনি দ্রুত অফিসে আসেন। আজ শুক্রবার বলে অফিস সহকারী দীপক ছিল না। সুমন চৌধুরী এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। তখন তিনি ফাঁক দিয়ে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়ার কথা আমাদের জানান। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

মহানগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে।

বরিশাল মহানগর পু‌লিশের উপ-ক‌মিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, আমরা ঘটনা শোনার পর পু‌লিশ পাঠিয়ে‌ছি। পু‌লিশ সকলের উপ‌স্থি‌তিতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ ক‌রে। প্রাথ‌মিকভা‌বে গলায় দ‌ড়ি দিয়ে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। বিষয়‌টি তদন্ত করবে পুলিশ। সিআইডি টিম ঘটনাস্থলে এসে বিষয়‌টি তদন্ত করেছে।

পুলিশের দাবি ঘটনাস্থল থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। স্বজন ও সহকর্মীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, সুইসাইড নোটগুলো পুলক চ্যাটার্জির হাতের লেখা। 

পুলিশ দাবি করে, সুইসাইড নোটগুলো পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী-সন্তান, ভাই, বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ও সমকাল দৈনিক বরিশাল ব্যুরো অফিসের বর্তমান দায়িত্বে থাকা সুমন চৌধুরীর নামে লেখা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। কারণ পাঁচটি সুইসাইড নোট তার পকেটে পাওয়া গেছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’

পুলিশের দাবি, পুলক চ্যাটার্জির ‘সুইসাইড নোট’ এ লিখেছেন ‘মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমি বেশকিছু রোগে আক্রান্ত। এই যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছি না। অসুস্থতার কারণে আমি সামাজিকভাবেও পিছিয়ে পড়েছি। রোগের যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে আমি আত্মহত্যা করিলাম। এজন্য কাউকে যাতে হয়রানি না করা হয়।’

সমকাল পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো অফিসের বর্তমানে দায়িত্বে থাকা সুমন চৌধুরীর নামে সুইসাইড নোট লেখা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ‘সুইসাইড নোট’ এ বলা হয়—‘তোমার সঙ্গে একসাথে দেড় যুগ কাজ করেছি। কখনো কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করিও। তোমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য দুঃখিত। যদি পারো দৈনিক সমকাল পত্রিকায় আমার পাওনা টাকা আদায় করে তোমার বৌদির হাতে দিও।’

‘সুইসাইড নোট’ এ তার স্ত্রী প্রিয়াংকাকে উদ্দেশ্য করেও লেখা হয়েছে বলে দাবি করে পুলিশ জানায়, ‘প্রিয়াঙ্কা আমাকে ক্ষমা করে দিও। পৃথিবীতে কারো জন্য কিছু থেমে থাকে না। প্রকৃতিকে (পুলক চ্যাটার্জির মেয়ে) দেখে রেখো এবং লেখাপড়া চালিয়ে যেও। দীপক (পুলক চ্যাটার্জির ভাই) এর সাথে থেকো ও তোমাদের আগলে রাখবে।’

পুলক চ্যাটার্জির ভাই দীপক চ্যাটার্জিকে উল্লেখ করে ‘সুইসাইড নোট’ এ লিখেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ—‘আমাকে ক্ষমা করিস। তোর উপর অনেক বোঝা চাপিয়ে গেলাম। প্রিয়াঙ্কা (পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী) ও প্রকৃতিকে (পুলক চ্যাটার্জির মেয়ে) আগলে রাখিস।’ 

পুলিশ জানায়, বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনকে উল্লেখ করে ‘সুইসাইড নোট’ এ লেখা হয়েছে— ‘আমি যেহেতু স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেছি তাই ময়নাতদন্তের প্রয়োজন নেই। প্রশাসনিক ঝামেলা ছাড়া আমার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করিও। তোমার সাথে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে। আমার স্ত্রী প্রিয়াংকা ও প্রকৃতির খেয়াল রাখিও। বিদায়।’

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন