১২ বছরেও পরিচালক পায়নি নজরুল গবেষণা ইনস্টিটিউট
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:২২
কবি নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শন নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’ নানা সংকটে ধুঁকছে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী কোনো পরিচালক পায়নি। ২৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা, প্রকাশনা ও স্মৃতি সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের পক্ষে ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পূর্ণকালীন পরিচালক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রকাশনা, তথ্য সংরক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম জানান, সীমিত জনবল নিয়েই তাদের নিয়মিত গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজ চালাতে হচ্ছে। স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ ও জনবল সংকটের কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা অনুদান প্রদান, গ্রন্থ প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের মতো কিছু কাজ করেছে। ভারতের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ‘নজরুল জার্নাল’ প্রকাশ প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্যের তুলনায় এসব কার্যক্রম বেশ সীমিত।
প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইনস্টিটিউটটি স্থানান্তরের কথা রয়েছে। ওই ভবনে আরও চারটি ইনস্টিটিউট জায়গা পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা বলেন, ভবন বা জায়গার সংকটকে মূল বাধা হিসেবে দেখানো হলেও প্রকৃত সমস্যা অন্যত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এই ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদটি সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ার সঙ্গে যুক্ত, যা অন্যান্য পরিচালকের ক্ষেত্রে নেই। যোগ্য গবেষকদের মধ্য থেকে স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ না হওয়ার পেছনে কৌশলগত বা প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। নতুন ভবনটি এ বছরের মধ্যে হস্তান্তর হলে ইনস্টিটিউটটি সেখানে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ নজরুল গবেষককে দ্রুত পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
ত্রিশালে কবির স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বটগাছটিও বর্তমানে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, কিশোর নজরুল স্কুল ফাঁকি দিয়ে এই গাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন। ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই বটগাছের কাছেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় বটগাছ ও ভিত্তিফলকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে যায়।
এ বিষয়ে উপাচার্য জানান, ঐতিহাসিক বটতলাটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেখানে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা জাদুঘর নির্মাণ করা যায় কি না, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিন্তাভাবনা করছে।
বিকে/মান্নান

