Logo

সারাদেশ

টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

Icon

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৭

টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮৫০   শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা


টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৫০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শুক্রবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের ন্যায় এবারও জিপিএ-৫ পাওয়া সদরের শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখব, ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।’

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলকে একসময় শিক্ষা নগরী বলা হতো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও শিক্ষামুখী ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’

১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’

তিনি বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। ইটঊঞ ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন