কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের মান্দা ফেরিঘাট এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ, গোলচত্বর ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হলেও সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড, খাবারের হোটেলসহ বিভিন্ন দোকানপাট। কোথাও কোথাও দোকানের মালামালও রাখা হচ্ছে সড়কের ওপর। এতে ব্যস্ত মহাসড়কে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মান্দা ফেরিঘাট ও আন্ডারপাস এলাকার বিভিন্ন স্থানে সিএনজি ও অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। সড়কের পাশে খাবারের হোটেলসহ বিভিন্ন দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকানের মালামাল সড়কের জায়গা পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পথচারী ও ছোট যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন নওগাঁ, রাজশাহী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। অথচ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের পরও যদি সেই সড়কের জায়গা দখলে থাকে, তাহলে উন্নয়নের সুফল কতটা মিলছে—এ প্রশ্নই এখন স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে দোকানপাট ও যানবাহনের স্ট্যান্ড থাকলেও কার্যকরভাবে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। দিনের পর দিন চোখের সামনে সড়কের জায়গা দখল হয়ে থাকলেও প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তাদের প্রশ্ন—বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো দখলমুক্ত করা হবে?
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ আতিয়া খাতুন বলেন, সড়ক বিভাগ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সময়ও স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছিল। অল্প দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হবে।
নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, মান্দা ফেরিঘাট এলাকায় সড়কের জায়গা দখল ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস বা সাময়িকভাবে দোকান সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মহাসড়কের সীমানা চিহ্নিত করে সড়ক ও ফুটপাতের জায়গা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সিএনজি-অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত স্থান ঠিক করে দিতে হবে, যাতে মহাসড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা বন্ধ হয়।
তাদের ভাষ্য, সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকি দূর করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
সড়ক উন্নয়নে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও যদি সড়কের জায়গা দখল হয়ে থাকে, তাহলে এর সুফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
বিকে/মান্নান

