Logo

সারাদেশ

ফেনী জেলায় শিল্পকারখানা নেই তবু বাড়ছে জায়গার দাম

Icon

এম. এমরান পাটোয়ারী, ফেনী

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৮

ফেনী জেলায় শিল্পকারখানা নেই  তবু বাড়ছে জায়গার দাম


ফেনী জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেল কলেজ নেই। উল্লেখযোগ্যভাবে বলার মতো কোন শিল্পকারখানাও গড়ে উঠছেনা। শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ক্রমবর্ধমান উন্নতি হচ্ছে মফস্বল শহরটির। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জেলা প্রবাসী অধ্যুষিত হওয়ায় রেমিটেন্স আহরনেও সারাদেশে শীর্ষে রয়েছে। ফলে এই শহরে সুউচ্চ বহুতল ভবনের পরিমান দিনদিন বেড়েই চলছে। এতে করে জায়গার দামও আনুপাতিকহারে বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পাঠানবাড়ি সংলগ্ন স্থানে ৬শতাংশ জায়গা কিনে বাড়ি করেন ৬ জন বেসরকারি চাকুরীজীবী। প্রতিশতক ২২ লাখ টাকায় কেনা হলেও এখন ওই জায়গার আশপাশের জায়গা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ লাখ টাকার বেশি। শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ইসলামপুর রোড় সংলগ্ন ৫ শতাংশ জায়গা বেচাকেনা হয়েছে ৯ কোটি টাকা। সদর উপজেলার এক প্রবাসী ওই জায়গাটি কেনার পর ৪ তলার ভবনটিতে লিফট সংযুক্ত করে আরো দুই তলা বর্ধিত করেন। অথচ সরকারি হিসাবে রামপুর মৌজায় প্রতি শতক জায়গার দাম প্রায় ৯৯

লাখ টাকা। শুধু তাই নয়, শহরের পাগলা মিয়া সড়কের পাশে ৬ লাখ টাকার নাল জমি বিক্রি হচ্ছে ৩০ লাখ টাকার বেশি। পৌরসভার তথ্য বলছে, ফেনী শহর আয়তনে তুলনামূলক ছোট। ২৭.২০ বর্গ কিলোমিটারের এই শহরের ১৮টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩ লক্ষাধিক নারী-পুরুষ বসবাস করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জায়গার পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রীর উর্ধ্বগতির কারনে স্থানীয় বাসিন্দা হলেও মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষরা স্বপ্নের বাড়ি করতে পারছেননা। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে জায়গা বিক্রি করলে গ্রামাঞ্চলের প্রবাসীরা জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেন। আবার অনেকে ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বাড়ি করেন।


তারা আরো বলেন, ফেনী শহরে নাগরিক সুবিধা ভালো হওয়ায় এখানে জায়গার চাহিদাও বেড়েছে। ফেনী জেলার পাশাপাশি নোয়াখালী, কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা এখানে স্থায়ী আবাস গড়েন। আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আলিফ ভিশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মু. ফজলুল হক জানান, শিল্পায়ন না বাড়লেও ফেনী শহরের আকার বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে জমির চাহিদা অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। প্রবাসীরা নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করেন। যারা এখানে চাকরীজীবী, শহর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় গ্রামের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই বেশি। তারা গ্রামে যেতে চাননা

বলেই বাসা-বাড়ি গড়তে চান। সরকারের পরিবর্তনের পর আবাসন ব্যবসায়ীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে বিনিয়োগ করে সুউ”চ বহুতল ভবন নির্মান করছেন। একাধিক প্রবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছেলে-মেয়েদের শহরে পড়ানোর আশায় উপার্জিত টাকা দিয়ে জায়গা কিনে বাড়ি তৈরি করেন। নিজেরা থাকার পাশাপাশি বাসা ভাড়া দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে অবসর জীবন কাটাতে পারবেন বলে মনে করেন তারা।

ফেনী সিটি গার্লস হাই স্কুল ও শান্তি নিকেতন ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক এম. মামুনুর রশিদ বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠানে দেড় সহস্র ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ১০শতাংশ শিক্ষার্থী ফেনী শহরের ¯’ায়ী বাসিন্দা। অন্যরা জেলা সদর সহ বিভিন্ন উপজেলা এমনকি জেলার বাইরের বাসিন্দা। ফলে আবাসিক এলাকাগুলো বাসার

চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও বেড়েছে। ইসলামী ব্যাংক ফেনী শাখার ব্যাব¯’াপক শহীদুল আলম জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে

তাদের শাখায় ২৩০ কোটি টাকা রেমিটেন্স এসেছে। গত আগস্টে ৩০ কোটি টাকা প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

ফেনী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির বলেন, ফেনীর সাথে অন্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজলভ্য হওয়ায় মূলত মানুষের চাহিদা বাড়ছে। এছাড়া আশপাশের জেলা কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, চট্টগ্রামের মিরসরাই আর খাগড়াছড়ি জেলার প্রায়ই বাসিন্দা ফেনীর উপর নির্ভরশীল। এখানে শিল্প জোন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফাইভস্টার মানের হোটেল না থাকলেও যাদের স্বচ্ছছলতা রয়েছে তারা ফ্ল্যাট, বাড়ি করতে আগ্রহী। ফলে মানুষের ঘনত্ব বাড়ায় চারপাশে শহর বাড়তেছে তার মত।

এদিকে সম্প্রতি ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন করেছেন সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা আক্তার রানু। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের সম্ভাব্যতা

 যাচাইয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে জায়গার প্রতি চাহিদা আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের মতে, বিগত সময়ে ফেনী শহরে জায়গা কেনা, বাড়ি নির্মাণ করতে ক্ষমতাসীনদের মোটা অংকের চাঁদা দিতে হতো। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর

রাজনৈতিক নেতাদের সদি”ছার কারনে এ ধরনের কোন চাঁদা দিতে হয়না। এতে করে আগের তুলনায় ¯’বিরতা কাটিয়ে জায়গা বেচাকেনা বেড়েছে বলে তিনি ফেনীর সময়কে জানান।

ফেনী জেলা রেজিস্ট্রার আবদুর রহমান মুহাম্মদ তামিম (চলতি দায়িত্ব) জানান, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ফেনী জেলার ০৭টি সাব-

রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে ৩৯ হাজার ৩৫০টি দলিল রেজিস্ট্রি বাবদ ২২১ কোটি ৩৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬২ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। সংশিষ্টদের তথ্যমতে, সরকারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো ভূমি রাজস্ব কর, যা ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি অফিস বা তহসিল অফিস, উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি

অফিসের মাধ্যমে সরকারি এ রাজস্ব আয় হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে পদক্ষেপের কারণে সরকারের এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় অনেকগুণ বেড়ে গেছে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন