ভূঞাপুরে ছোট্ট একটি ডিঙিই ৮ গ্রামের মানুষের ভরসা
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১০
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে যমুনার শাখা নদী লৌহজংয়ের ওপর একটি সেতুর অভাবে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ৮ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্ষা মওসুমে ছোট্ট একটি ডিঙি নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা বয়সী মানুষ। নৌকাডুবে প্রায়ই ঘটছে হতাহতের ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে জিনিসপত্র। আর শুষ্ক মওসুমে কয়েক মাইল পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে। চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সময় মতো বাজারজাতকরণ করতে পারছেন না কৃষকরা। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পড়তে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি উঠলে এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।
উপজেলার গোবিন্দাসী ও গাবসারা ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে এই লৌহজং নদী। উপজেলার বাগবাড়ি জোয়াদ আলীর মোড় এলাকায় এ নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রামপুর, গোপিনাথপুর, ভূঁইয়াপাড়া, খন্দকার পাড়া, বাগবাড়ি, জিগাতলাসহ ৮ টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের।
বর্ষা মওসুমে ছোট্ট ডিঙি নৌকা আর শুষ্ক মওসুমে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের। নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে নৌকাডুবির ঘটনা, হতাহত হচ্ছে লোকজন। পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র, হারিয়ে যাচ্ছে মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার।
সরেজমিনে দেখা যায়- উপজেলার রামপুর, গোপিনাথপুর, ভুইয়াপাড়া ও খন্দকার পাড়া সহ ৮ গ্রামের নারী ও শিশুসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাগবাড়ি জোয়াদ আলীর মোড় হয়ে লৌহজং নদী পার হয়ে উপজেলা শহর, হাটবাজার করে এবং স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। নদী পারাপার হতে সময় নষ্ট ছাড়াও মাঝে মাঝে তাড়াহুড়া করতে গিয়ে বা অধিক যাত্রী ওঠার কারণে নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটে। নষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, যাত্রীদের মোবাইল, হারিয়ে যায় টাকা-পয়সা। সর্বোপরি জীবনের ঝুঁকি বাড়ে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীদের।
গোপিনাথপুর গ্রামের আলিফ হোসেন জানান, ছোট এই নদীটির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাটবাজারে পরিবহন খুব কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল।
গোপিনাথপুর শিক্ষার্থী সাথী ও মারিয়া বলেন, আমাদের গ্রাম থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলো মিটার। ছোট্ট ডিঙি নৌকায় পার হতে গিয়ে নদীতে পড়ে পোষাক,বই,খাতা সবই ভিজে নষ্ট হয়ে যায় এছাড়া স্কুলে যেতে অনেক দেড়ি হয়। স্কুলগামী ছোট্ট শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার হয় । এ নদীতে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা দরকার।
রামপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে পারাপার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুলগামী ছোট ছেলে-মেয়েরা সাতারও দিতে পারে না। কৃষকদের ভোগান্তিও কম নয়, তারা যখন ধান, পাট বা অন্যান্য কৃষিপন্য মাথায় নিয়ে নদী পার হয়। কাজেই এখানে একটি সেতু হলে ভোগান্তি কমে আসবে।
দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি উঠলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখিনি। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। আর আশ্বাস নয়, লৌহজং নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে আশার প্রতিফলন দেখতে চায় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন,সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে জায়গাটি ইতিমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন কারা হয়েছে।উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ক্যাপশন:লৌহজং নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা নৌকা। ছবিটি ভূঞাপুর উপজেলার বাগবাড়ি জোয়াদ আলীর মোড় এলাকা থেকে তোলা।
বিকে/মান্নান

