শ্রীপুরে ৯ কোটি টাকার সেতুতে উঠতে হয় মই বেয়ে
শ্রীপুর (গাজীপুর)প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০:২৭
গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সীমান্তে সুতিয়া নদীর ওপর প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে একটি সেতু। দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে নির্মিত সেতুটির মূল কাজ শেষ হলেও এখনো তৈরি হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে সেতু থাকলেও এর সুফল পাচ্ছেন না দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। উল্টো সেতুতে উঠতে হচ্ছে মই বেয়ে, আর বিকল্প হিসেবে ঝুঁকি নিয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে পাশের রেলওয়ে সেতু।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংযোগ সড়কের জায়গায় অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে তৈরি করা হয়েছে খাড়া ঢাল এবং বসানো হয়েছে মই। বৃষ্টি হলে মাটি পিচ্ছিল হয়ে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলজিইডি গাজীপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। প্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংযোগ সড়কের জায়গা থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। ফলে সেতুতে ওঠার জন্য অস্থায়ীভাবে তৈরি মাটির ঢাল বেশ খাড়া। ওই ঢাল বেয়ে ওঠা-নামা করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ কারণে অনেকে পাশের রেলওয়ে সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সেতুর মূল কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু সংযোগ সড়কের কারণে মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। এলাকায় একটি সরকারি, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি বেসরকারি স্কুল রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। বৃষ্টি হলে নতুন সেতু দিয়ে চলাচল করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
আরেক বাসিন্দা আলতাফ বলেন, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জায়গাটি রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ সড়ক না থাকায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থী নুসরাত বলেন, আগে জায়গাটি অনেক উঁচু থাকায় সেতুতে ওঠা কঠিন ছিল। এখন মাটি ফেলে ও মই বসিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এটিও নিরাপদ নয়। বিকল্প হিসেবে রেলওয়ে সেতু ব্যবহার করতে হয়, সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়ক তৈরি হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শেখ বলেন, সেতুটি গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে অবস্থিত। গফরগাঁওয়ের অন্তত আটটি ইউনিয়নের মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহনেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সেতু নির্মাণের পরও সেতুতে ওঠার রাস্তা না থাকায় মানুষকে মই বেয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। প্রকল্পটি অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার প্রকল্প হওয়ায় এতে জমি অধিগ্রহণের জন্য কোনো অর্থের সংস্থান ছিল না। এ কারণে সারা দেশে এ ধরনের প্রকল্পের কোনো স্কিমেই জমি অধিগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। তবে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।
বিকে/মান্নান

