Logo

সারাদেশ

মাথার খুলির ভেতরে বুলেট

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

Icon

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৩

অ
মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরায় পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনকে (৩৮) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টায় মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. শাকের হোসেন সদর উপজেলার পার্নান্দুয়ালি গ্রামের মো. কুতুবউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাকের মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভোরে দুজন দুর্বৃত্ত একটি মোটরসাইকেলে এসে শাকেরকে গুলি করে। পরে তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাইনুল হাসান বলেন, সকালে একজন রোগীকে হাসপাতালে আনলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করি স্ট্রোক করেছেন। কিন্তু পরক্ষণে পর্যবেক্ষণ করে মাথার পেছনে সরু ছিদ্র দেখতে পাই। 

মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হলে স্পটে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনাটি নিয়ে আমাদের এক্সপার্টরা কাজ শুরু করেছে। এই মৃত্যুর পেছনে কী রহস্য রয়েছে সেটা তদন্ত সাপেক্ষে আপনাদেরকে জানাতে পারবো।

শাকের হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। শাকেরের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা ছিল বলে জানা গেছে।

মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়া গেছে: পুলিশ

শাকের হোসেনের মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে চিকিৎসক ও পুলিশের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গুলির আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা।

এ সম্পর্কে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল হাসান বলেন, মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়া গেছে। গুলির কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সিসিটিভি ক্যামেরায় গুলির শব্দ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাস টার্মিনালের প্রবেশমুখে জেলা পুলিশের স্থাপিত একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ওই ক্যামেরার অডিওতে ঘটনার সময় দুটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। ঘটনার কাছাকাছি সময়ে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক টার্মিনালে ঢুকতে ও বের হতে দেখা যায়। তবে সিসিটিভি ক্যামেরার মুখ যেদিকে, ওই কাউন্টারের অবস্থান আড়ালে হওয়ায় ঘটনার ছবি ধরা পড়েনি। তবে হত্যাকাণ্ডের সময় কাউন্টারের ভেতরে দুই যাত্রী ছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে। ওই দুজন বাসে ঢাকায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে শাকেরকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে হামলাকারীদের পরিচয়, হত্যার উদ্দেশ্য এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আজ দুপুরে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকেরা শাকেরের মাথার খুলির ভেতরে বুলেট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সকাল থেকেই প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলির কথা বলছিলেন। আমরাও এটিকে টার্গেট কিলিং বলে দাবি করছিলাম। এখন গুলি পাওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেল।’

সংসদ সদস্য আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। জড়িতদের শনাক্ত করে ঘটনার মূল কারণ উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের সহিংসতায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান বের করারও দাবি জানান তিনি।

দুপুরে মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীও মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে যান। সকাল থেকেই হাসপাতাল ও বাস টার্মিনাল এলাকায় বিএনপির নেতা–কর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। দুপুর ১২টার দিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে টার্মিনাল এলাকায় মিছিল করেন তারা। এ সময় কিছুক্ষণ ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

‘আমার বাচ্চাদের দেখবে কে’

আজ দুপুরে নিহত শাকের হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী, ভাই ও স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। স্বামীকে হারিয়ে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার রুমা বারবার আহাজারি করছিলেন। তাদের দুই সন্তান। একজন পঞ্চম শ্রেণিতে; অন্যজন নার্সারিতে পড়ে।

রুমা বলেন, প্রতিদিন ভোরে শাকের কাউন্টারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হতেন। শাকেরের কারও সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক ছিল বলে আমার জানা নেই। শাকের সবার সঙ্গে মিশতেন, কারও প্রতি হিংসা ছিল না।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুমা বলেন, ‘কে আমার স্বামীকে নিয়ে গেল, আপনারা বের করে দেন। যে এই কাজ করেছে, তাকে খুঁজে বের করে আমার সামনে আনুন।’ দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। রুমার ভাষ্য, স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন