চলনবিলে সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-খামারিরা

মাল্টিমিডিয়া করেসপন্ডেন্ট, তাড়াশ
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:৫৯
-6780e19557988.jpg)
বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল এখন মধুর ভান্ডারে পরিণত হয়েছে। শীতের এই সময়টিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৌ-চাষিরা সরিষার ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। চলনবিলের মাটির উর্বরতায় সোনা ফলার কথা প্রকৃত অর্থেই সত্য। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে বিলের রূপও পাল্টে যায়। বর্ষায় পানিতে পূর্ণ বিল শরতে সোনালি ধানের ক্ষেতে রূপান্তরিত হয়। আর শীত এলে সরিষার হলুদ ফুলে বিল হয়ে ওঠে অপরূপ।
সরিষার ফুলের মিষ্টি সুবাসে ভরে ওঠা বিলের পরিবেশ মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত। মৌ-চাষিরা বিলের বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ-বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। এখানকার মধু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত চলনবিলের তাড়াশ উপজেলায় এ বছর ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের নানা জেলা থেকে আসা ৪০ থেকে ৪৫ জন ভ্রাম্যমাণ মৌ-চাষি প্রায় ৪ হাজার ৬৩৯টি মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন। এ মৌসুমে ১১২ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, “এ বছর আগেভাগেই বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সরিষার চাষ শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে মৌ-চাষিরা মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনায় আমরা আনন্দিত।”
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যানুসারে, সরিষার মৌসুমে মধু সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌ-চাষিরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সফল হবেন।
সাতক্ষীরা থেকে আসা সম্রাট মৌ খামারের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “সরিষার মাঠে প্রচুর ফুল ফুটেছে। তবে তীব্র ঠান্ডার কারণে কিছু মৌমাছি মারা যাচ্ছে। যদি কুয়াশা আর ঠান্ডা কমে যায়, মধু সংগ্রহ আরও ভালো হবে। আমরা আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।”
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মর্জিনা ইসলাম বলেন, “মৌ-চাষ একটি পরিবেশবান্ধব শিল্প। এটি ফসলের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অল্প পুঁজিতে এপিস মেলিফেরা জাতের মৌমাছি পালন করে বেশি মুনাফা অর্জন সম্ভব।”
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “বিগত বছরের তুলনায় এ বছর সরিষার আগাম চাষ হয়েছে। ফুলের পরিমাণও পর্যাপ্ত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে। মৌ-চাষিরাও সফলভাবে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারবেন।”
ফিরোজ আল আমিন/এমএইচএস