Logo

সারাদেশ

জমি দখলে নিতে সংগীতশিল্পীকে মারধর বিএনপি নেতার

Icon

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭:২১

জমি দখলে নিতে সংগীতশিল্পীকে মারধর বিএনপি নেতার

বাগেরহাটের রামপালে ভবন ও জমি দখলে নিতে সংগীতশিল্পী রাজিব ইমতিয়াজ পরাগকে (৪৪) মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাওলাদার মো. জাহিদুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বড়সন্নাসী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগেও স্থানীয়দের ঘের দখল ও বাড়িঘর দখলের অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে।

মারধরের শিকার সংগীতশিল্পী রাজিব ইমতিয়াজ পরাগ বড়সন্নাসী এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তবে পেশাগত কারণে তিনি মাকে নিয়ে খুলনা শহরে বসবাস করেন।

রাজিব ইমতিয়াজ পরাগ বলেন, ‘বড়সন্নাসী বাজার সংলগ্ন এলাকায় আমাদের নিজস্ব জমিতে দুইতলা ভবন ও ১৫টি দোকানঘর রয়েছে। গেল ২৩ নভেম্বর বাবা মারা যাওয়ার পর বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম ওই ভবন ও দোকানগুলো দখলে নেওয়ার অপচেষ্টা শুরু করেন। বিভিন্ন লোক দিয়ে ওই ভবন তার কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য বলেন। রাজি না হলে আমাকে হুমকি-ধমকিও দিয়েছেন কয়েকবার। আমার কাছে চাঁদাও চেয়েছেন। এসব বিষয়ে গেল ৩০ ডিসেম্বর রামপাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘সবশেষ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) মা-বোনকে নিয়ে বাড়িতে আসি। আমরা যখন বাড়ির সামনে ও পেছনে থাকা জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ করছিলাম, তখন জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০-২৫ লোক এসে আমাদের ওপর হামলা করে। তাৎক্ষণিকভাবে আমার বোন বিষয়টি পুলিশকে জানায়।’ 

‘রামপাল থানা থেকে আসা এসআই রেজা ও রিপনের সামনেই জাহিদ ও তার লোকজন আমাকে বেধড়ক মারপিট করে। আমার বড়বোনকেও মারধর করে। বোনের গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন ও হাতে থাকা বিভিন্ন জমির চারটি দলিল ছিনিয়ে নিয়ে যান জাহিদ ও তার লোকজন। এই অবস্থায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ দখলের নিশ্চয়তা চাই।’ মারধরের সঠিক বিচারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই শিল্পি। এ ছাড়া এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

শুধু রাজিব ইমতিয়াজ পরাগের ভবন নয়, গেল ৫ আগস্টের পরে হাওলাদার মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড়, সন্ন্যাসী, বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘের দখল, চাঁদাবাজি ও নিরহর মানুষদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যদি কেউ এমন অভিযোগ করেন, তা মিথ্যা।’ 

অভিযুক্ত সাবেক যুবদল নেতা মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘রামপাল উপজেলার ১০ ইউনিয়নে যদি দুই-চার জন খারাপ লোক থাকেন, তার মধ্যে জাহিদুল ইসলাম অন্যতম। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।’

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। তবে কোনো পক্ষ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ‘দলে কোনো খারাপ জায়গা হবে না। আমাদের কাছে হাজারো অভিযোগ জমা পড়েছে, প্রতিদিন নতুন নতুন অভিযোগ আসছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা স্পষ্ট, দলে কোনো খারাপ মানুষের জায়গা নেই। দলকে শুদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই শৃঙ্খলাভঙ্গকারী ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেখ আবু তালেব/এমজে/এমবি

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর