-679f68775f5c0.jpg)
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুল চাষের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে ১৯৪ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৪০৬ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কুল একটি স্বল্পমেয়াদী ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। যা বছরের যেকোনো সময় চাষ করা যায়। তবে বর্ষাকালই কুল চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা বিশেষভাবে ফল চাষের জন্য উপযোগী বলে পরিচিত। এখানকার লাল মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জাতের ফল, বিশেষ করে কুল চাষ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এ বছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বল সুন্দরী, আপেল কুল, কাশ্মীরি সুন্দরী ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকি, চাষিদের যথাযথ পরামর্শ ও তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ফলন আশানুরূপ হয়েছে। কুল বিক্রির মাধ্যমে কৃষকরা ১১ কোটিরও বেশি টাকা আয় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের খাটিংগা ও চানপুর গ্রামের বিভিন্ন বাগানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাদুড়, কাঠবিড়ালি ও অন্যান্য পাখির আক্রমণ থেকে কুল রক্ষা করতে চাষিরা নেটজাল দিয়ে বাগান ঢেকে রেখেছেন।
কৃষক নিয়াজ আহমেদ নিপু জানান, ২০২১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো কুল চাষ শুরু করেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে ২০০টি বল সুন্দরী জাতের চারা রোপণ করেন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই তিনি প্রথম ফসল পান এবং তা বিক্রি করে এক লাখ টাকা আয় করেন। দ্বিতীয় বছরে তার আয় দেড় লাখ টাকায় পৌঁছায়। চলতি বছরে তার প্রত্যাশা তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত সাহা বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি ও আবহাওয়া ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে কুল একটি স্বল্পমেয়াদী ও লাভজনক ফল হওয়ায় দিনদিন এর আবাদ বাড়ছে। চলতি বছর জেলায় বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, আপেল কুলসহ বিভিন্ন জাতের কুল ১৯৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ১৪০৬ মেট্রিক টন কুল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিক্রির মাধ্যমে কৃষকরা প্রায় ১১ কোটি টাকা আয় করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’
লিটন হোসাইন জিহাদ/এমজে