৭ মাস ধরে বেতন পান না সিএইচসিপিরা, মানবেতর জীবনযাপন

মাল্টিমিডিয়া করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪:৩৩

ছবি : বাংলাদেশের খবর
গত সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত ‘কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার’রা (সিএইচসিপি)। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই স্বাস্থ্যকর্মীরা।
কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামের দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান ছিল সরকারের মূল উদ্দেশ্য। ২০১১ সালে প্রকল্পটি চালু হয় এবং ২০১৬ সালের ১৪ জুন মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও বেতন বাড়েনি।
এদিকে গত বছরের জুলাই থেকে সিএইচসিপিদের বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২০আগস্ট ঢাকায় আন্দোলন করলে অন্তর্বর্তী সরকার চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আশ্বাস দেয়। কিন্তু এখনো প্রকল্প বা রাজস্ব খাত—কোনো দিক থেকেই বেতন-ভাতা ছাড় করা হয়নি। ফলে সাত মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাননি, এমনকি প্রণোদনা ভাতাও বন্ধ।
হোসেনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. আব্দুল মান্নান বলেন,‘বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে, সামান্য বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। এরমধ্যে গত সাত মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। অনেক সহকর্মী বেতন না পেয়ে মানসিক চাপে ভুগছেন, অনেকে স্ট্রোক করে মারা গেছেন। দ্রুত সমাধান দরকার।’
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) অ্যাসোসিয়েশন দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি মোরশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন,‘দিনাজপুর জেলার ৩১৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের একই অবস্থা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না। হচ্ছে, হবে বলেই সময় পার হচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত বেতন পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিএইচসিপিদের বেতন বন্ধ থাকায় আমরা ব্যথিত। এটি শুধু খানসামায় নয়, সারাদেশেই একই অবস্থা। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হচ্ছে।’
এটিআর/