এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জিরেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একইসঙ্গে অটোগ্যাস ৬১.৮৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিইআরসির কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে নতুন দর ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
বিইআরসি ঘোষিত নতুন দামে বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্যও সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫.৫ কেজির সিলিন্ডার ৭৯২ টাকা, ১২.৫ কেজি ১ হাজার ৮০১ টাকা, ১৫ কেজি ২ হাজার ১৬১ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ৩০৫ টাকা, ১৮ কেজি ২ হাজার ৫৯৩ টাকা এবং ২০ কেজি ২ হাজার ৮৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ২২ কেজি সিলিন্ডার ৩ হাজার ১৬৯ টাকা, ২৫ কেজি ৩ হাজার ৬০১ টাকা, ৩০ কেজি ৪ হাজার ৩২১ টাকা, ৩৩ কেজি ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা, ৩৫ কেজি ৫ হাজার ৪১ টাকা এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৪২৮ টাকা। পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের মূল্য মূসকসহ প্রতি লিটার ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যদিও গত ৫ মাস ধরে বিইআরসি ঘোষিত দরের কোনো কার্যকারিতা নেই। বলা যায়, নজিরবিহীন অরাজকতা চলছে এলপিজি খাতে। বিক্রেতারা ইচ্ছে মাফিক দাম আদায় করছে। মার্চের দর ১৩৪১ টাকা থাকলেও ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বেচাকেনার খবর পাওয়া গেছে। দর ১৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অটোগ্যাসের দাম লিটার প্রতি ৬১.৮৩ টাকা নির্ধারণ করেছে।
এলপি গ্যাস সংকটকে পুঁজি করে একের পর এক সুবিধা দেওয়া হয় আমদানিকারকদের। আমদানিসীমা বাড়িয়ে দেওয়া, ট্যাক্স কমানো এবং এলসিতে ঋণ সুবিধার ধারাবাহিকতায় ফ্রেইটচার্জও (জাহাজ ভাড়া) টন প্রতি ১০৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২১ ডলার করা হয়েছে।
শুধু এসব সুবিধা নয়, আমদানিকারকদের দাবির প্রেক্ষিতে ঋণে এলসি খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গত ১২ জানুয়ারি জারিকরা আদেশে ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে এলপিজি আমদানির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

