Logo

অর্থনীতি

ভোজ্যতেলে অস্থিরতা

বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকট, খোলা তেলের কেজি ২১০ টাকা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪০

বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকট, খোলা তেলের কেজি ২১০ টাকা

রাজধানীর ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা থামছেই না। প্রায় দেড় মাস আগে শুরু হওয়া বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। এর সুযোগ নিয়ে বাজারে খোলা তেলের দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে চলেছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদুল ফিতরের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি ২১০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে, যা গত কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ছোট ও মাঝারি দোকানে ১ বা ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় উধাও। পরিচিত ও বড় ব্র্যান্ডের তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় কিছু দোকানে ৫ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও তার সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। এমনকি সুপারশপগুলোতেও এখন নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি বোতলজাত তেল বিক্রি করা হচ্ছে না।

বোতলজাত তেলের সংকটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা খোলা তেলের দিকে ঝুঁকলেও সেখানেও মিলছে না কোনো স্বস্তি। সরকারি সংস্থা টিসিবি-র তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন ২০৫ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা দুই দিন আগেও ১৯০ থেকে ১৯২ টাকা ছিল। একইভাবে পাম তেলও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় ঠেকেছে। অথচ গত ডিসেম্বর মাসে সরকার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৬ টাকা এবং পাম তেল ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বর্তমানে লিটারপ্রতি ১৪ থেকে ২০ টাকা বেশি দরে তেল বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা এই সংকটের পেছনে মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধিতে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে এবং আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমস্যার অজুহাতে ট্রাক ও লরি ভাড়া ড্রামপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাম বাড়ানোর আবেদন জানালেও সরকার এখনো অনুমতি দেয়নি। ফলে কোম্পানিগুলো বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে বেশি দামে তেল ছাড়তে পারছে না, যা বাজারে এক ধরণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার মানিকনগর বাজারের বিক্রেতা আসলাম শেখ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ড্রাম সয়াবিন ও পাম তেলের দাম মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মুগদা বাজারের একজন সাধারণ ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোকানে ১ লিটারের বোতল নেই, ৫ লিটারের বোতল কেনার সামর্থ্য নেই। বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনতে এসে দেখছেন সেটার দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত আমদানির জট না খুললে এবং ডিলার পর্যায়ে কঠোর তদারকি জোরদার না করলে সাধারণ মানুষের জন্য ভোজ্যতেল কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। বর্তমানে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন ১৯৫ টাকা লিটার দরে পাওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভোক্তাদের খোলা তেল চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ভোজ্যতেল

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন