Logo

অর্থনীতি

পুঁজিবাজারে বড় পতন

সূচক ও বাজার মূলধন কমলেও লেনদেনে গতি

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৫

সূচক ও বাজার মূলধন কমলেও লেনদেনে গতি

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহটি পার হয়েছে চরম অস্থিরতা আর বড় পতনের মধ্য দিয়ে। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই সূচক পয়েন্ট হারিয়েছে, যার ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। তবে আশার কথা হলো, বড় এই দরপতনের মধ্যেই বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, যার ফলে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বা প্রায় ২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বেশি দরপতন হওয়ায় নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩৯ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। একইভাবে শরীয়াহ সূচকও কমেছে ১৪ পয়েন্ট। সূচকের এই বড় পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধনে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ৬ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহেই বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছেন।

সূচক কমলেও গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি ছিল ইতিবাচক। সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ৫৪৮ কোটি টাকার তুলনায় ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। মূলত ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ লেনদেন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল এই খাতের দখলে। এছাড়া প্রকৌশল, বস্ত্র এবং ব্যাংক খাতও লেনদেনের শীর্ষে ছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক এবং আল-আরফাহ ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর দরপতন সূচককে নিচের দিকে টেনে নামিয়েছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে কিছুটা দর বৃদ্ধির আভাস পাওয়া গেলেও কোনো জোরালো ইতিবাচক খবরের অভাবে তা স্থায়ী হয়নি। গত সপ্তাহে ডিএসইর বেশির ভাগ খাতে নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ দর কমেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। বিপরীতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। টাকার অংকে লেনদেনের শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, ওরিয়ন ইনফিউশন, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।

ডিএসইর মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও গত সপ্তাহে দরপতন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৭টির দাম বাড়লেও কমেছে ১৫২টির।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বাজারের স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় ভূমিকা এখন অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন