রোববার থেকে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার চলবে নতুন সময়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৭
দেশব্যাপী চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া সাশ্রয়ী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংক এবং পুঁজিবাজারের লেনদেনের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোববার থেকে এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে। শনিবার পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
ব্যাংকিং লেনদেন চলবে ৩টা পর্যন্ত: বাংলাদেশ
ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাংকে গ্রাহক লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে
বিকেল ৩টা পর্যন্ত। আগে যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলত। তবে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য
ব্যাংক কর্মকর্তাদের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের পরিবর্তিত অফিস সময়সূচির সঙ্গে
তাল মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
তবে বন্দর এলাকাগুলোতে (সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর) ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলো আগের মতোই
২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।
পুঁজিবাজারে লেনদেন কমলো আধা ঘণ্টা: একই
পথে হেঁটেছে দেশের পুঁজিবাজারও। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জানিয়েছে, রোববার থেকে
শেয়ারবাজারে লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর ৫ মিনিটের
একটি 'পোস্ট ক্লোজিং' সেশন থাকবে যা দুপুর ২টায় শেষ হবে। বর্তমানে এই লেনদেন দুপুর
২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলত। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে লেনদেনের জন্য আধা ঘণ্টা
সময় কম পাবেন।
সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সূচি: গত
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার থেকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত
সব অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমিয়ে ৭ ঘণ্টা করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী অফিস চলবে
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরণের
শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিয়ে বাড়ি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে
আলোকসজ্জার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।
কেন এই পরিবর্তন: মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা
এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে
ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের সময় কমানোর ফলে অফিসগুলোতে
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

