Logo

অর্থনীতি

সরকারি ব্যাংকের এমডিরা আতঙ্কে

Icon

এস রহমান খান

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮

সরকারি ব্যাংকের এমডিরা আতঙ্কে

ফাইল ছবি

চাকরি হারানোর আতঙ্কে সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক-এমডিরা। শঙ্কায় রয়েছেন, যেকোনো সময় তাদের চুক্তি বাতিল করতে পারে সরকার। তবে টিকে থাকতে তারা নানা মহলে ধরনা দিচ্ছেন, যোগাযোগ করছেন সরকারের উচ্চ মহলে। সবচেয়ে বেশি ভয়ে আছেন সরকারি চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা। অন্যদিকে, নিয়োগ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন সরকারি ঘরানার প্রভাবশালী ডিএমডিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় সপ্তাহের সপ্তাহের মাথায় বিদায় নেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ব্যাংকিং খাতে ধারণা ছিল, হয়তো নতুন সরকার গভর্নর পদে তাকে বহাল রাখবেন। কিন্তু সেটি হয়নি। এমনকি যেদিন তিনি বিদায় নেন, তার আধ ঘণ্টা আগেও ব্যাংকিং খাত নিয়ে তার পরিকল্পনা গণমাধ্যমে শেয়ার করেন। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই নতুন গভর্নরের নাম প্রকাশ পায়।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড. আহসান এইচ মনসুরের বিদায়ের পর, পদত্যাগ করেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানও। ফলে সরকারি ব্যাংক খাতে একটি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে মনে করছেন, সরকার হয়তো তার অনুগতদের সামনে আনবে, তাদের এমডিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাবে। তবে কেবল অনুগত ব্যক্তিদের পদে বসালে সেটি হিতে বিপরীত হবে। যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের বাছাই করে নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে, বর্তমান এমডিদের মধ্যে যদি দক্ষ ও যোগ্য কেউ থাকে, তার চুক্তি বাতিল করা ঠিক হবে না। এতে সরকারের সুনাম নষ্ট হবে।

সূত্রগুলো বলছে, কেবল ব্যাংকিং খাতে নয় আমলা, পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পান, তাদের অনেককে বিদায় নিতে হচ্ছে। কারও কারও সঙ্গে সরকার চুক্তি বাতিল করেছে, কেউ কেউ নিজ থেকে বিদায় নিয়েছেন। কারণ নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়; তারা চাচ্ছেন, নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের পদায়ন করতে। 

সরকারি খাতে সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংক। এমডি হিসেবে রয়েছেন শওকত আলী খান। ব্যাংকটির স্বাস্থ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তার আমলে ব্যাংকটি আর্থিক সূচকে ব্যাপক উন্নতি করে। প্রথমবারের মতো মূলধন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠে। সন্তোষজনক হারে বেড়েছে আমানত, একই সঙ্গে মুনাফা। অতীতে কোনো আমলে ব্যাংকটি আর্থিক সূচকে এমন উন্নতি করেনি। 

জনতা ব্যাংকের এমডি মো. মজিবুর রহমান। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থান আগে থেকেই নাজুক। কেবল সরকারি ব্যাংক, এই সুনামে এখনো টিকে আছে। খেলাপি ঋণ পাহাড় সমান। তবে ব্যাংকটির কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি এমডি। অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলামও সন্তোষজক ‘পারফরমেন্স’ দেখাতে ব্যর্থ। কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম রূপালী ব্যাংকের এমডি। ব্যাংকটি তার আমলে দুই একটি সূচকে ভালো করলেও, মোটাদাগে পিছিয়েছে। কর্মীদের পদোন্নতিসহ নানা কারণে বিতর্কিত ওয়াহিদুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনেও এনিয়ে নালিশ পড়েছে। তাছাড়া ঋণ কেলেঙ্কারির হোতা এক ডিএমডিকে তিনি ব্যাংকের নেতৃত্ব সঙ্গে রেখে নানা প্রশ্ন জন্ম দেন। যদিও শেষ পর্যন্ত এই ডিএমডিকে অন্য একটি ব্যাংকে সরকার বদলি করেছে।   

সূত্রগুলো বলছে, দক্ষতা, যে যেমনই হোক, চার এমডি টিকে থাকতে নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তারা সরকারের নানা মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের সঙ্গে কীভাবে ব্যাংককে যুক্ত করা যায় সেই চেষ্টা করে নিজেকে টিকিয়ে রাখার পথও খুঁজছেন। অন্যদিকে, এমডি হতে চেষ্টা করছেন বেশ কয়েকজন। যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নানা দুর্বলতা বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ নানা জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন ওইসব ব্যক্তিরা।  

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নীতিমালা জারি করে। যেখানে সুযোগ রাখা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এমডি পদে যোগদানের। তাছাড়া ডিএমডি পদে দুই বছর পূর্ণ না হলে, তারা এমডি পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না। ফলে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা ডিএমডি পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের মধ্যে যারা এখনো চাকরিতে রয়েছেন তাদের থেকেই নিয়োগ দিতে হবে সরকারকে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় বলে, সব ৩৬০ ডিগ্রি পাল্টে যাবে এমনটি নয়। বিগত সরকারের উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন। কাজেই সরকারি ব্যাংকের এমডিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো অপরাধ, দুর্নীতি না করে থাকলে কারও জন্য ভয়ের কিছু নেই। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ব্যাংকের এমডি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাকে পদ থেকে সরাতে আমারই একজন সহকর্মী ওঠে পড়ে লেগেছেন। আমি যখন এমডি নির্বাচিত হয়েছিলাম, তখনো ওই সহকর্মী প্রার্থী ছিলেন। তবে, ব্যাংকটির উন্নতিতে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদিও আমি আশা করিনি, জীবনে এমডি পদে আসতে পারব। 

তবে ব্যাংকটির পর্ষদের একজন সদস্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসায়, ওই এমডি কিছুটা চাপে রয়েছেন বলে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন