যুদ্ধের প্রভাবে দ্বিগুণ দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৯
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় দ্বিগুণ দরে গ্যাস ও তেল কিনতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, কেউই যুদ্ধের পরিকল্পনা বা যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় নিয়ে সরকার গঠন করিনি। আমরাবা এটা জানতাম না যে, ১৫-১৬ দিন পরে এরকম একটা হ্যাভক (অরাজকতা) আসবে। এবং হ্যাভকটা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা দেওয়া দরকার। ফার্নেস তেলের দাম লিটারে বাড়লো ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা সেটা হলো—যে এলএনজি আমরা কিনতাম ১০ ডলারে আমাদের জিটুজি কন্ট্রাক্টে, স্পট থেকে সেটা কিনতে হচ্ছে ২০ ডলারে। যে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমরা কিনতাম ৫০, ৫৫ বা ৬০ ডলারে সেটা কিনতে হচ্ছে ১১৬ ডলারে।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সারও প্রায় দ্বিগুণ দরে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির। তিনি বলেন, আমাদের এখানে ইউরিয়া লাগে প্রায় ২৬ লাখ টন বছরে। তার একটা বাল্ক পার্ট বাইরে থেকে আনতে হয়, কারণ ফর মেনি মেনি ইয়ারস উই হ্যাভ নট বিন অ্যাবল টু কিপ আওয়ার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিজ রানিং থ্রু আউট দ্য ইয়ার—গ্যাসের জন্য। যে গ্যাস দিয়ে আমরা চালাতে পারি না ফার্টিলাইজার (কারখানা), সেটাই আবার বাইরে থেকে আনতে হয় ফরেন কারেন্সি খরচ করে। যে গ্যাস আমরা কিনতাম ৪৫৬ ডলারে, সেটা কিনতে হচ্ছে ইন অ্যাকসেস অব ৮০০ ডলার।
জ্বালানির উচ্চদর বহন করা সরকারের জন্য ‘কঠিন' হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষায়, তার মানে একটা সরকারের যে ম্যানুভারিং ক্যাপাবিলিটি, যে একটা আর্থিক কুশন যে আমি আমার প্রায়োরিটিতে এইভাবে খরচ করব; এই প্রায়োরিটিতে খরচ করার ক্ষমতাটা বা ম্যানুভারিং স্পেস এই সরকারের জন্য অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছে।
মুক্তাদির বলেন, আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হলো—একদিকে আমরা প্রসেসগুলোকে ব্যাপকভাবে ডিরেগুলেট এবং সহজ করতে চাই। অন্যদিকে একটি বড় বাধা হলো জ্বালানি। এই কঠিন সময়েও জ্বালানি মন্ত্রণালয় শিল্পকারখানা সচল রাখতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আমরা পেয়েছি... বড় বাধা যা আমরা পেয়েছি তা হলো বাংলাদেশে কোনো কিছুর সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। আজ যদি আমাদের কাছে দুই মাস এলএনজি সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকত, তবে ১০ ডলারের এলএনজি আজ ২০ ডলারে স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হতো না।
শুল্ক নিয়ে ব্যবসায়ীদের আশার কথা শোনান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আর্থিক শৃঙ্খলা আনার জন্য আমাদের ট্যাক্স বেস বাড়ানো দরকার। ট্যাক্স বেস বাড়ানোর জন্য আমরা ব্যক্তিগত কর বাড়াচ্ছি না, বরং করের আওতা বাড়াচ্ছি। আমার বিশ্বাস, এনবিআর এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্য ও ইচ্ছা নিয়ে কাজ করছে। আগামী বাজেট এবং তার পরবর্তী বছরে আপনারা এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখতে পাবেন। ভয়ের কোনো কারণ নেই যে আপনাদের ওপর কোনো চাপ আসছে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য মনজুর হোসেন, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ, রিজওয়ান রাহমান, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্য্ন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট মো. কাওসার আলম, আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

