Logo

অর্থনীতি

আরও ৫ কোটি ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৮

আরও ৫ কোটি ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেড় মাস বিরতির পর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আবার সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার বাজার থেকে ৭ কোটি ডলার কেনার পর বৃহস্পতিবার আরও ৫ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে এই ডলার সংগ্রহ করা হয়।

এর আগে সর্বশেষ গত ২ মার্চ আড়াই কোটি ডলার কেনা হয়েছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে।

নতুন করে কেনাকাটার ফলে চলতি অর্থবছর বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড-এর বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডলারের দরে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ডলারের দরে সামান্য ওঠানামা দেখা দেয়। মার্চের শুরুতে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় পৌঁছায়, যা এর আগে দীর্ঘদিন ১২২ টাকা ২৫-৩০ পয়সার মধ্যে ছিল। এরপর কিছু সময় বাজার থেকে ডলার কেনা স্থগিত রাখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল ৭ কোটি ডলার কেনার বিপরীতে বাজারে প্রায় ৮৫৯ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়। এর আগে ২ মার্চ পর্যন্ত ৫৪৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনে বাজারে ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

এদিকে আমদানি বাড়লেও রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে ইসরায়েল-ইরান ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা ডলার বাজারে চাপ তৈরির আশঙ্কা তৈরি করলেও রেমিট্যান্সপ্রবাহ শক্তিশালী থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১৬১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।

২০২১ সালের আগে দীর্ঘদিন ডলারের দর ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল থাকলেও করোনা-পরবর্তীসময় ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তা বাড়তে বাড়তে ১২২ টাকার ওপরে উঠে যায়। একই সময়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার।

সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ আবার বেড়ে বুধবার পর্যন্ত গ্রস হিসেবে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির আমদানি দায় বাবত গত মাসে আকুর প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ সাময়িকভাবে কমে গিয়েছিল।

বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন