রেকর্ড উচ্চতায় রেমিট্যান্স
২২ দিনেই এলো সাড়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৫
দেশের অর্থনীতির সংকটময় মুহূর্তে আশার আলো দেখাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২২ দিনেই বৈধ পথে দেশে এসেছে ২৪১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা) অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ
তথ্য প্রকাশ করে ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি
জানান, চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৯৮ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স আসছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিলের
প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় এ বছর একই সময়ে
প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে
২২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৬২ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের
একই সময়ের তুলনায় ২০.১০ শতাংশ বেশি।
এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে এসেছিল ৩৭৫
কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের
রেকর্ড। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩০০ কোটি ডলারের ওপরে
ছিল।
তথ্য বলছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা
রেকর্ড ৩০.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের হিসেবে
সর্বোচ্চ। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায়
পৌঁছাবে রেমিট্যান্স।
এমন এক সময়ে রেমিট্যান্সের এই জোয়ার এলো
যখন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নানামুখী চাপে রয়েছে। আজই প্রকাশিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিআরআই-এর
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সরকার গত মার্চ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়েছে এবং
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী
আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং ডলারের বাজারে
স্থিতিশীলতা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের অর্থনীতির
রক্তসঞ্চালন সচল রাখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং রেমিট্যান্সে
প্রণোদনা অব্যাহত রাখলে সামনের দিনগুলোতে বৈধ পথে অর্থ আসার এই গতি আরও ত্বরান্বিত
হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

