Logo

অর্থনীতি

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২০:৪৩

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

দেশের অর্থনীতিতে চলমান স্থবিরতা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধির চাকা আবার সচল করতে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর জোরদার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক বক্তব্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান আলোচ্য ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় বন্ধ কারখানা চালু’ এখন শুধু একটি সাধারণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি কৌশলগত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আসছেন। অচল শিল্প ইউনিটগুলো সচল না করা গেলে অর্থনীতিতে টেকসই গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না—তার এই অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও একই ধরনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। বন্ধ কল-কারখানা সচল করে কর্মসংস্থান বাড়াতে কম সুদে ঋণ সুবিধা দিতে একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই তহবিল সরকারের অর্থায়নে হবে, নাকি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে—তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও গাইডলাইন প্রস্তুত করছে।

তবে এই তহবিল গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত। সংস্থাটির চলমান ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো—নতুন করে বড় ধরনের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল তৈরি না করা, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি অর্থায়ন বাজারে নতুন তারল্য সৃষ্টি করে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। আইএমএফের চাপে ইতোমধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ২.২০ বিলিয়ন ডলারে এবং সিএমএসএমই খাতের বিশেষ তহবিল ২৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকায় সংকুচিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন তহবিল গঠন না করে বিকল্প কোনো পদ্ধতিতে অর্থায়ন করা যায় কিনা, তাও ভাবছে কমিটি।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, "বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করলে দ্বিমুখী সুবিধা পাওয়া সম্ভব। প্রথমত, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে ফেরা যায়। দ্বিতীয়ত, তুলনামূলক কম ব্যয়ে এসব কারখানা সচল করা সম্ভব। এর বিপরীতে নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে জায়গা নির্বাচন, উচ্চ ব্যয় এবং উৎপাদনে যেতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। তবে যেকোনো সুবিধা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কারখানার আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা উচিত, যাতে কোনো জালিয়াতি বা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা না পায়।"

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, গত দেড় বছরে বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে শিগগিরই একটি বিশেষ নীতিগত প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে। গভর্নর মোস্তাকুর রহমান লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়ন ও ঋণ পুনঃতফসিল সহজ করার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন