Logo

অর্থনীতি

দ্বিমুখী চাপে চামড়া খাত

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ২১:১৭

দ্বিমুখী চাপে চামড়া খাত

কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং নিয়মিত লোডশেডিং; এই দুই চাপে দেশের চামড়া খাত এখন চরম সংকটে পড়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে কাঁচামালের দাম এরই মধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর ওপর দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট হচ্ছে পণ্য, ধীর হয়ে যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি আসছে বাজেটে কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন ট্যানারিগুলোতে কাজের চাপ বেড়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জমে থাকা চামড়া দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করে স্থান খালি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। তবে এবার উদ্যোক্তারা পড়েছেন দ্বিমুখী চাপে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কাঁচামালের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে চামড়ার দামে। প্রতি বর্গফুটে অতিরিক্ত প্রায় ১২ সেন্ট খরচ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে রয়েছে দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট।  এবিএস ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমাম হোসেন বলেন, গত ১০-১২ দিন আগের তুলনায় এখন প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে খুব সমস্যা হয়। বিদ্যুৎ না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াই থেমে যায়। আইসিইউতে যেমন বিদ্যুৎ না থাকলে রোগী মারা যায়, তেমনি ট্যানারিতে ডাই, ওয়েট-সবই নষ্ট হয়ে যায়। আগে যেখানে ২০ সেন্টে কাজ হতো, এখন ২৫ সেন্ট লাগে, শুধু কেমিক্যাল কস্টেই প্রতি স্কয়ার ফিটে ১৫ সেন্ট পার্থক্য পড়ছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি না পেলে আসন্ন ঈদে চামড়া কেনার আগ্রহ কমে যাবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ সুবিধার নির্দেশ থাকলেও ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ পরিস্থিতি আরও জটিল করছে বলে অভিযোগ তাদের। ফলে বাজেটে কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর সাড়ে ৭ শতাংশে নামানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। এবিএস ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমাম হোসেন আরও বলেন, সরকার বলছে ব্যবস্থা আছে, কিন্তু ব্যাংক কথা শুনছে না। আমরা ডিফল্টার না, লোনও নিয়মিত চলছে, কোনো সমস্যা নেই। তারপরও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিটিএর সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঈদের আগে যে লোডশেডিং হচ্ছে, এতে ক্রেতারা হতাশ হয়ে পড়ছে। তারা চামড়া কিনবে কি না, সেই চিন্তায় আছে। ট্যাক্স ও ভ্যাট কাঠামো যদি যৌক্তিকভাবে সমন্বয় না করা হয়, তাহলে চামড়ার বাজার আরও চাপের মুখে পড়বে। 

পরিবেশ দূষণের দায় মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর ধরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের ঘুরপাক খাওয়া দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত চামড়া শিল্পের এই দুরবস্থার জন্য নীতিগত দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, লেদার গুডসের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। চামড়া শিল্প এলাকায় ইটিপি ঠিকভাবে কার্যকর না হলে এই খাত রফতানিতে শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে না। 

চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ১০৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চামড়া খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন