লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণা ও শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি বেলিয়ার
বিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১৭:০৫
সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবর্গ
দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় ‘ক্যাপিটাল মেশিনারিজ’ (মূলধনী যন্ত্রপাতি) হিসেবে ঘোষণা এবং বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল সংগঠনের পক্ষ থেকে এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বর্তমান নগরায়ণ, বহুতল ভবন নির্মাণ, শিল্পায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে লিফট কোনো বিলাসপণ্য নয়; বরং এটি একটি অপরিহার্য মূলধনী যন্ত্রপাতি।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে লিফটকে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ শ্রেণি থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার পর ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরেও ধারাবাহিকভাবে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ২০২৩ থেকে ২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে লিফট আমদানির ওপর মোট শুল্কহার প্রায় ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে আবাসন শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সংকোচন করতে বাধ্য হয়েছে, যার কারণে কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়া সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় ক্যাপিটাল মেশিনারিজ হিসেবে ঘোষণা, লোড ফ্যাক্টর প্রতি কেজি ৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ, স্থানীয় উৎপাদনের নামে আমদানিকৃত কাঁচামালের অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি, বন্দর পর্যায়ে স্কেলিং, মূল্যায়ন ও ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ লিফট আমদানির জন্য শুল্ক ও কর কাঠামোর যৌক্তিক সংস্কার।
বেলিয়ার নেতারা বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক ও করের চাপে অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে নিম্নমানের বা রিকন্ডিশনড লিফট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করা হলে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, নিরাপদ ও টেকসই লিফট সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানি করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, লিফট আমদানির ওপর উচ্চহারে শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর আরোপের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি আবাসন শিল্প ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়ছে। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমদানিকৃত লিফটের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় বহুতল ভবনে লিফট স্থাপনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বর্তাচ্ছে, ফলে মধ্যবিত্তের জন্য নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক দেশের পরিকল্পিত নগরায়ণ, স্মার্ট সিটি বিনির্মাণ এবং নিরাপদ অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে লিফট খাতের প্রতি সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন বেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াদুল হক, উপদেষ্টা এমদাদ উর রহমান, সহ-সভাপতি অসীম সরকার, পরিচালক মোহাম্মদ জাকিরুল হক এবং চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মো. ইউসুফ নবী।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার লিফট খাতের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নিরাপদ নগরায়ণ নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

