ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন, বিশ্লেষকরাও শঙ্কিত
বাজেটে রাজস্বের লক্ষ্য পূরণে চাপ
এম এম হাসান
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১৭:০৬
ছবি: সংগৃহীত
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। কারণ সরকার ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বললেও বাস্তবে এটি ৫৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এই বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের রাজস্ব নীতির কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা। যদি নতুন করদাতা যুক্ত করার পরিবর্তে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো হয়, তাহলে কাক্সিক্ষত ফল না এসে উল্টো ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরাও উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্য আদায় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সিপিডির মতে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ পর্যন্ত) রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এপ্রিল থেকে জুন-২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা আদায় করলেও বছর শেষে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার বেশি আদায় কঠিন হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অতীতের ধারাবাহিকতা, অর্থনীতির বাস্তবতা এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা কঠিন এক অঙ্ক। তবে সরকার বলছে, আয় বাড়াতে প্রস্তাবিত বাজেটে তারা কয়েকটি কৌশল নিয়েছে। এই কৌশলগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে ধারণা তাদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশাল এই রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পূরণে সরকারের নিয়মিত আয়ের তুলনায় বাড়তি আয়ের প্রয়োজন হবে। এই অর্থের চাপ এসে পড়বে যারা নিয়মিত কর দেয় তাদের ওপরই। কেননা, দেশের কর জাল খুবই সীমিত। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের চাপও বাড়বে। এরই মধ্যে তার আলামতও দেখা গেছে। বাজেটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুললেই ভ্যাট আইডেন্টিফিকেশন সার্টিফিকেট (বিন) নেওয়াটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত করের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার প্রস্তাব এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ৫৫তম প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর, ভ্যাট ও শুল্ক থেকে আদায় করা হবে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা। বাজেটে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। তবে রাজস্ব আদায়ে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না হলে সরকারের ঋণনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যবসায়ীরা কেন উদ্বিগ্ন: আগামী অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবতার সঙ্গে উচ্চাভিলাষী বলছেন প্রায় সব ধরনের ব্যবসায়ী শ্রেণি। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, করজাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও নতুন করে করদাতা যুক্ত করার পরিবর্তে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ানো ইঙ্গিতই বেশি মিলছে। যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপর বাড়তি চাপ দিলে সেটি মাঠপর্যায়ের করদাতাদের জন্য হয়রানির কারণ হবে। তাছাড়া, এটি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নেতৃবৃন্দের মতে, বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যপূরণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন। ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বস্তুনিষ্ঠ হয়নি। এনবিআরের জন্য নির্ধারিত ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য অর্জনে কর কাঠামো সংস্কার এবং প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থা প্রণয়ন জরুরি।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান জানান, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। সেখানে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া আগামী অর্থবছরের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। তার আশঙ্কা, এই লক্ষ্য পূরণের চাপে মাঠপর্যায়ে করদাতাদের হয়রানির ঘটনা বাড়তে পারে।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান-উর-রহমান। তিনি বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কিছু উদ্যোগ থাকলেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চাপ তৈরি হলে কর প্রশাসন অনেক সময় বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে, যা ব্যবসা পরিচালনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ট্যাক্স নেটের (কর জাল) আওতা যদি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো না যায়, তাহলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক ট্যাক্সধারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের ওপরই করের চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সোলার সিস্টেমের আমদানি সহজীকরণ করা- দুটি জায়গাতেই বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপ সন্তোষজনক। তবে এর প্রকৃত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় কিনা, সেটি দেখার বিষয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা কেন শঙ্কিত: সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে যে গাণিতিক ভিত্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা সঠিক হয়নি। ফলে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি ও শৃঙ্খলাহীনতা তৈরি হতে পারে। প্রথম যে ঝুঁকিটি আমি দেখি, তা হলো চলতি অর্থবছরের যে ভিত্তি ধরে প্রবৃদ্ধি, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ বা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, সেই ভিত্তিটিই দুর্বল।
এই ধরনের প্রাক্কলন বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি বাজেটের শৃঙ্খলা নষ্ট করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সূত্রেই কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা পেয়েছে। তাই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর মার্চ থেকে জুনের মধ্যে কোনো বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া দুর্বলতাগুলোকে স্বীকার করে যদি ভিত্তিটি বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা হতো, তবে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাগুলো আরও টেকসই হতো।
একই আশঙ্কা রিসার্স অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাকের মতে, নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, সেখানে অন্ততপক্ষে এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যাবে। সরকার একদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে করছাড় ও প্রণোদনার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। ফলে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
আরেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, সরকার একদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে করছাড় ও প্রণোদনার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। ফলে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তার মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কর-জিডিপি অনুপাত। বর্তমানে এটি সাত শতাংশেরও নিচে অবস্থান করছে, যা সমমানের অনেক দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বাজেটে করব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করেন তিনি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের (ওআইআরডি) এক অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (বিআইজিএম) সহযোগী অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ ড. জুবায়ের আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্রধানত প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার চেয়ে ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ বা ‘উচ্চাভিলাষের’ প্রতিফলনই বেশি দেখা যাচ্ছে।
এই অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, প্রতিবছরই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও আদায়ের মধ্যে গ্যাপ বা ব্যবধান বাড়ছে। এনবিআরের বর্তমান সক্ষমতা, ডিজিটাল ব্যবস্থার অভাব এবং করের আওতা বাড়ানোর সীমাবদ্ধতার কারণে এক বছরের মধ্যে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাস্তবসম্মত নয়।
সরকার কী বলছে: ব্যবসায়ী নেতারা এবং অর্থনীতিবিদরা প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও সরকারের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন এটি অর্জন সম্ভব হবে। এ বিষয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, সারাদেশে ভ্যাট বা মূসকব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে এবং ভ্যাট দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হবে। এর ফলে করজাল সম্প্রসারিত হবে এবং বিপুলসংখ্যক নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাটব্যবস্থার আওতায় আসবে।
তার মতে, শুধুমাত্র ভ্যাট খাত থেকেই অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সিগারেট খাতে রাজস্ব ফাঁকি রোধে কিউআর কোড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ খাতে ফাঁকি বন্ধ করা গেলে অতিরিক্ত সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি কর ফাঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হবে না।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটা নতুন মডেলের দিকে এগোচ্ছে সরকার। সেটা হচ্ছে- বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন, উৎপাদন থেকে কর্মসংস্থান, কর্মসংস্থান থেকে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি করা।
তিনি জানান, রাজস্ব আয় বাড়াতে সরকারের ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হলে করের হার না বাড়িয়েও আয় বাড়ানো সম্ভব। ব্যবসা বেশি থাকলে করপোরেট কর এবং মূল্য সংযোজন কর বাড়বে। পাশাপাশি বাড়বে কাস্টমস শুল্ক। এটি ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করার জন্য পৃথিবীতে স্বীকৃত একটি চমৎকার পদ্ধতি।
প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাবনায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে ছয়টি কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেগুলো হলো- কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর, করনীতি ও প্রশাসনের পৃথকীকরণ, কর নেট সম্প্রসারণ, ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা, পরোক্ষ কর থেকে আয় বৃদ্ধি এবং ‘থ্রি আর’ কৌশল। তার মতে, এই কৌশলগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে কর আদায় বাস্তবায়িত করা সম্ভব হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সহজ হবে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

