এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডসের চতুর্থ আসর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:৩৯
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর চতুর্থ আসর।
আকিজ বশির গ্রুপের পরিবেশনায়, এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর সঞ্চালনায় এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও বিজিএমইএ-এর সহযোগিতায় আসরটি বসে।
এবারের আয়োজনে ১৯টি ক্যাটাগরিতে ৫৯টি টেকসই উদ্যোগকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩৪টি উদ্যোগ বিজয়ী এবং ২৫টি উদ্যোগ অনারেবল মেনশন সম্মাননা অর্জন করে। বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মাননার লক্ষ্য হলো জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশে অসামান্য অবদান রাখা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডগুলোকে স্বীকৃতি জানানো। আয়োজনটির আয়োজক বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ।
বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ টেকসইতার ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম প্রধান স্বীকৃতি হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। সম্মাননা অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডগুলোর উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও কার্যকর প্রভাব তুলে ধরা হয়।
এই বছর সম্মাননাটির জন্য ৪৭২টি মনোনয়ন জমা পড়ে। ১৯টি ক্যাটাগরিতে প্রদত্ত এই সম্মাননা জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সম্পূর্ণ পরিধি এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেগুলোর প্রাসঙ্গিকতাকে ধারণ করে। বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয় একটি কঠোর, বহু-স্তরের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রাথমিক বাছাইয়ের পর সাতটি পৃথক গ্র্যান্ড জুরি সেশনে বিস্তারিত মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন খাতের ২৭ জন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ অংশগ্রহণ করেন, যারা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষভাবে সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগগুলোকে নির্বাচিত করেছেন।
আয়োজনটিতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে ব্র্যান্ডগুলোকে প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে উদ্দেশ্য নিয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস সেইসব উদ্যোগকে সম্মান জানায়, যারা কেবল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতি রাখছে না, বরং বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন তৈরি করছে। এই চ্যাম্পিয়নরাই নির্ধারণ করছে বাংলাদেশে দায়িত্বশীল ব্যবসা বলতে আমরা কী বুঝব। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা সাহসী উদ্যোগে অনুপ্রেরণা জোগাতে চাই, রূপান্তরমূলক ভাবনাগুলোকে বিস্তৃত করতে চাই এবং এমন একটি ভবিষ্যৎ গড়তে চাই যেখানে টেকসইতা ব্যতিক্রম নয়, বরং প্রত্যাশিত মানদণ্ড।
এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডসের পূর্বে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় সাসটেইনাবিলিটি সামিট ২০২৬-এর চতুর্থ সংস্করণ। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
সামিটে তিনটি কি-নোট সেশন, দুটি প্যানেল আলোচনা, তিনটি ইনসাইট সেশন, দুটি কেস স্টাডি, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ এবং একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। সেশনগুলোতে দায়বদ্ধতা থেকে কার্যকর প্রভাব এবং কমপ্লায়েন্স থেকে দায়িত্বশীল আচরণে উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়, যেখানে প্রাধান্য পায় টেকসইতা কীভাবে ব্যবসায়িক মডেল পুনর্গঠন করছে, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং অগ্রগামী প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করছে।
কি-নোট সেশনে বক্তব্য রাখেন মাসুদ খান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে দেশের সবুজ রূপান্তরে পুঁজি সঞ্চালন নিয়ে আলোচনা করেন; প্রফেসর ফিলিপ কটলার, প্রফেসর ইমেরিটাস, কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট, নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এবং ড. খালিদ হাসান, প্রেসিডেন্ট, রেসইন্ট সাসটেইনেবিলিটি ইনস্টিটিউট, কানাডা, যারা ভার্চুয়াল সেশনে পুঁজিবাদের পরবর্তী বিবর্তন ও টেকসই মূল্য সৃষ্টি নিয়ে যৌথ বক্তব্য রাখেন এবং ড. শ্রামন ঝা, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ফাউন্ডেশন, যিনি টেকসইতা কেন প্রবৃদ্ধির নতুন অপরিহার্য শর্ত, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।
অন্যান্য আলোচনায় টেকসইতা কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও সহনশীলতা নিশ্চিত করছে, তা বিশেষ গুরুত্ব পায়। ইনসাইট সেশনগুলোতে আলোচনা হয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে দায়বদ্ধতাকে পরিমাপযোগ্য অংশীদারিত্বমূলক মূল্যে রূপান্তর করছে, তথ্য-উপাত্ত ও ইএসজি রিপোর্টিং কীভাবে ব্যবসায়িক আস্থার নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে এবং শক্তিশালী ইএসজি কাঠামো কীভাবে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে। প্যানেল আলোচনায় উঠে আসে বোর্ডরুম থেকে বটম লাইন পর্যন্ত ব্যবসায়িক কৌশলে টেকসইতাকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত কীভাবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দায়িত্বশীল ব্যবসার নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে। কেস স্টাডি উপস্থাপনায় গুরুত্ব পায় সবুজ প্রবৃদ্ধিতে কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা এবং টেকসইতা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য গল্প বলার চর্চা, আর এক্সপার্ট ডিপ ডাইভে বিশ্লেষণ করা হয় দেশের সাপ্লাই চেইনে দায়িত্বশীল ব্যবসার প্রকৃত তাৎপর্য।
সাসটেইনাবিলিটি সামিট ও এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডসের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন (আইএএ) বাংলাদেশ, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন (এএমএফ) ও মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এমএসবি); পিআর পার্টনার হিসেবে ব্যাকপেজ পিআর; অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার হিসেবে টার্কিশ এয়ারলাইনস এবং হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ঢাকা যুক্ত ছিলো। সামিট ও অ্যাওয়ার্ড গালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ। সাসটেইনাবিলিটি সামিট ও এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভের একটি উদ্যোগ।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

