Logo

শিক্ষা

জাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা

Icon

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১৬:২৬

জাবিতে নারী শিক্ষার্থীকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা

সন্দেহভাজন ব্যক্তি, ছবি: সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন জঙ্গলে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগতের বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-বেরুনী হলের বর্ধিতাংশ, পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। পরে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি শিক্ষার্থীর গলায় রুমাল বা দড়িসদৃশ কিছু পেঁচিয়ে টেনে-হিঁচড়ে পাশের আল-বেরুনী হলের এক্সটেনশন সংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে যান।

এ সময় পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী যাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা ওই নারী শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত অবস্থায় জঙ্গলের পাশে দেখতে পান। তখন তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না এবং শরীর ও কাপড়ে মাটি লেগে ছিল বলে জানান তারা।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে খবর দেন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে নিরাপত্তা অফিসে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় এক নারী শিক্ষার্থী ধর্ষণচেষ্টার শিকার হন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা অভিযুক্তকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আসুক।

প্রক্টর জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। অভিযুক্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তার আরও স্পষ্ট ছবি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনা ক্যাম্পাসে জানাজানি হওয়ার পরে জাকসুর নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন