শ্রেণীকক্ষে কবিগান, লোক সাহিত্য বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ
জান্নাতুল লামিশা, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৪৬
ছবি: সংগৃহীত
কবিগান বাংলা লোকসাহিত্যের এক হারিয়ে যেতে বসা অংশ, বাংলা লোকসংগীতের একটি বিশেষ ধারা।
যেখানে দুই বা ততোধিক দল প্রতিযোগিতামূলকভাবে মুখে মুখে পদ রচনা করে, তাৎক্ষণিকভাবে সুর দিয়ে গান ও তর্কে অংশ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত দিনের মাঝেও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা চেষ্টা করেছে লোকসাহিত্যের সেই অবিচ্ছেদ্য অংশকে আবার বাঁচিয়ে তুলতে।
ক্লাসরুম মানেই বই-খাতা, পড়াশোনা আর শিক্ষকের পাঠদান। চিরচেনা এই দৃশ্যের বাইরে গিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষেই বানিয়েছিল কবিগানের আসর। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে মুখর হয়ে ওঠে ক্লাসরুম। তবে এটি নিছক বিনোদনের আয়োজন ছিল না; এর আড়ালে ছিল হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ।
একসময় বাংলার গ্রামগঞ্জে কবিগানের আসর ছিল মানুষের বিনোদন ও মিলনমেলার অন্যতম মাধ্যম। রাতভর চলত কবিয়ালদের যুক্তি, রসিকতা, তাৎক্ষণিক ছন্দ আর গানের পাল্টাপাল্টি। সময়ের সঙ্গে মানুষের বিনোদনের ধরন বদলেছে। মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নানা ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে কবিগানের সেই ঐতিহ্য অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।
আয়োজনে এক পক্ষের কবিয়াল তুলে ধরেন আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা ও পরিবর্তিত সময়ের বাস্তবতা। বিপক্ষের কবিয়াল পাল্টা প্রশ্ন তোলেন,নতুনের ভিড়ে পুরোনো ঐতিহ্যকে কি ভুলে যাওয়া যায়?
এই ছন্দের লড়াইয়ের মধ্যেই উঠে আসে কবিগানের গুরুত্ব। কারণ কবিগান শুধু গান নয়; এতে রয়েছে ভাষার সৌন্দর্য, তাৎক্ষণিক বুদ্ধি, যুক্তি, সৃজনশীলতা ও লোকজ জীবনের প্রতিচ্ছবি। একটি প্রজন্মের কাছ থেকে আরেক প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
আয়োজনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী জানান,বাংলা সাহিত্যের একটি আদি ও ঐতিহ্যবাহী হচ্ছে কবিগান।। এটি বাংলা মধ্যযুগে অনেক বেশি পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এটি আমাদের ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে গিয়েছে। সেই কবিগান আমরা এই আধুনিক যুগে পরিবেশন করতে পেরেছি, যা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের ও গর্বের বিষয়। আমরা সেই হারানো ঐতিহ্যকে যতটা সম্ভব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি।
এই আয়োজনে তত্ত্বাবধায়নে থাকা শিক্ষক শামসুন নাহার সেতু জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়ে কবিগানের একটি শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক উপস্থাপনা আয়োজন করেছি। এর মাধ্যমে তারা কবিগানের ভাষা, ছন্দ, তাৎক্ষণিক বুদ্ধিদীপ্ত কথোপকথন ও সামাজিক বক্তব্যকে হাতে কলমে অনুধাবনের সুযোগ পেয়েছে। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সৃজনশীলতাকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। দলগতভাবে প্রস্তুতি ও পরিবেশনার মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসাহিত্যেকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরো আনন্দময় ও জীবন্ত করে তোলা।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

